ইসলামে স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর নিয়ম

স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর নিয়ম: আপনি কি জানেন আপনার ঘুমের পদ্ধতি ও ধরণ আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে।

গবেষণার মধ্যমে জানা গেছে দম্পতিদের ঘুমের ধরণ তাদের সম্পর্কের গভীরতা এবং শক্তি প্রকাশ করে।

একটি সমীক্ষায় জানা গেছে যে, ৯৪ শতাংশ দম্পতি – যারা একে অপরের নিকটে ঘুমায় তারা তাদের বিবাহিত জীবনে মনস্তাত্ত্বিকভাবে খুব খুশি হয়।

এর বিপরীত 60 শতাংশ যারা একে অপর থেকে আলাদা ঘুমান তারা সুখী হন না বলে জরিপটি উল্লেখ করেছে।

এই অনুপাতটি স্বামী বা স্ত্রীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও পরস্পর পাশাপাশি থাকার গুরুত্ব প্রকাশ করে।

তবে আরেকটি গবেষণা নিশ্চচিত করেছে, ঘুমের প্রতিটি পদ্ধতি – সম্পর্কের মাত্রা এবং স্বামীদের স্বাস্থ্য ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে সময়ে সময়ে আলাদা হতে পারে।

আমরা আজকে স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর ইসলামি নিয়ম নিয়ে আলোচনা করছি। কোন পদ্ধতিতে ঘুমালে দম্পতিরা আরো সুখী হতে পারেন সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

ইসলামে স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর নিয়ম

স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর ক্ষেত্রে ইসলামে বিধিবদ্ধ কোনো নিয়ম নেই। এ ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী বিছানায় তাদের সুবিধা মতো আসন গ্রহণ করতে পারবে।

স্বামী স্ত্রীর ডানে আর স্ত্রী স্বামী বামে ঘুমাতে হবে এমন কোরো কথা নেই। দাম্পত্যজীবনে ইসলাম বেশ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছে। খুব বেশি কড়াকড়ি বা বিধি নিষেধ আরোপ করেনি।

কেবল পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে সহবাস ও অন্যাল সেক্স ব্যতীত বাকি সকল প্রক্রিয়া স্বামী স্ত্রী তাদের যৌন জীবন উপভোগ করতে পারেন।

তবে স্বামী স্ত্রী বিছানার যে পাশেই ঘুমাবে উভয়ে ঘুমের দোয়া পড়ে নিবে। ঘুমানোর সময় প্রত্যেকে তাদের ডান দিকে মুখ করে ঘুমের দোয়া পড়বে। এটা সুন্নত।

আমরা স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর কয়েকটি পদ্ধতি আলোচনা করছি। যা একটি দাম্পত্য জীবনকে রোমান্টিক করতে সহায়ক হবে।

পেছনে পেছনে হয়ে ঘুমানো

পিছনে পিছনে হয়ে ঘুমানো। স্বামীর পিঠ থাকবে স্ত্রীর পিঠের সাথে মিলিত আর স্ত্রীর পিঠ থাকবে স্বামীর পিঠের সাথে মিলিত।

এটি এমন অবস্থান যা অবলম্বন করে প্রায়ই দম্পতিরা তাদের বিয়ের রাতে ঘুমায়। এটি স্পর্শ করার অনুভূতি সহ বেশ স্বাধীনতা এবং প্রশান্তি দেয়।

এই ভঙ্গিটি একে অপরের প্রশান্তি, শিথিলতা এবং সুরক্ষা তা প্রকাশ করে। যা দাম্পত্য জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

স্পর্শ না করে পেছনে পেছনে হয়ে ঘুমানো

একে অপরের পিঠ স্পর্শ না করে পিছনে পিছনে হয়ে ঘুমানো। এই অবস্থানটি স্বাধীনতা এবং একে অপরের গ্রহণযোগ্যতা নির্দেশ করে।

তবে একই সাথে এটি তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের শক্তির অভাব প্রকাশ করতে পারে। যা তাদের সম্পর্কে বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে।

মুখোমুখি হয়ে ঘুমানো

স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই পৃথক বালিশে ঘুমায়। তবে তাদের প্রত্যেকে তার সঙ্গীর মুখোমুখি হয়। স্বামীর মুখ থাকে স্ত্রীর দিকে আর স্ত্রীর মুখ থাকে স্বামীর দিকে।

তারা ঘুমানোর আগে পরস্পর অনেক কথা বলে এবং এটি তাদের চোখের ভাষায় প্রেম নিবেদন, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা ও বন্ধুপ্রীতম শক্তিকে প্রকাশ করে।

সেই সাথে এটি একটি আরামদায়ক ও রোমান্টিক অবস্থান। সাধারণত নতুন দম্পতিদের পাশাপাশি পুরানো দম্পতিদের জন্যও এটি উপযুক্ত।

পাশাপাশি হয়ে ঘুমানো

স্বামী স্ত্রী একে অপরের পাশাপাশি হয়ে ঘামাবে। এক্ষেত্রে তারা মুখোমুখি অথবা একজের বুকের দিকে অন্য জনের পিঠ দিয়ে ঘুমাবে।

এই অবস্থায় তাদের একজনের উরু অন্য জনের উরুর উপর থাকে এবং একজন অন্যজনকে জড়িয়ে ধরে। এটা একটি রোমান্টিক ও ভালোবাসার শক্তিশালী বন্ধন প্রকাশকারী মাধ্যম।

জড়িয়ে ধরে ঘুমানো – স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর নিয়ম

স্বামী তার স্ত্রীকে পিছন থেকে বুকের সাথে জড়িয়ে ঘুমায়। এটি স্ত্রীকে রাখার ক্ষেত্রে স্বামীর ভূমিকা প্রকাশ করে। সে যেন তার রক্ষাকর্তা এবং স্ত্রীর প্রতি তার কোমলতা রয়েছে।

এই অবস্থানটি সাধারণত পরিস্থিতি এবং দাম্পত্যজীবনের বয়স অনুসারে পরিবর্তিত হয়। সর্বদা তাদের অবস্থান এক ও অভিন্ন থাকে না।

বুকে ঘুমানো – স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর নিয়ম

স্বামী লম্বালম্বি হয়ে ঘুমাবে আর স্ত্রীর তার বুকে বা কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাবে। অথবা স্ত্রী লম্বালম্বি হয়ে ঘুমাবে আর স্বামী তার স্ত্রীর বুকে বা পেটের নিচের দিকে মাথা রেখে ঘুমাবে।

এটি এমন একটি অবস্থান যা বেশিরভাগ দম্পতি পছন্দ করেন। নাটক সিনেমায় এমন দৃশ্য বেশ আকর্ষণীয়ভাবে দেখানো হয়।

স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর নিয়ম

স্বামী স্ত্রী কি এক সাথে বিবস্ত্র হয়ে ঘুমাতে পারবে?

এই প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবে মনে আসে যে, স্বামী স্ত্রী সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে কি ঘুমাতে পারবে? ইসলামে উলঙ্গ হয়ে ঘুমানোর বিধান কি?

সংক্ষেপে বললে উত্তরটি হবে হ্যা, স্বামী স্ত্রী একসাথে উলঙ্গ হয়ে ঘুমাতে পারবে। এটা তাদের জন্য সম্পূর্ণরূপে বৈধ।

এবার উত্তরটি একটু বিস্তারিত বিশ্লেষণ করছি। আমরা কাপড় পরিধান করি মানুষের চোখে থেকে নিজেদের গোপনাঙ্গ ঢেকে রাখার জন্য।

কেননা গোপনাঙ্গ একদিকে লজ্জাস্থান অন্যদিকে কামভাব জাগ্রতকারী। তাই ইসলামি বিধান মতো এই স্থানগুলো মানুষের দৃষ্টির আড়াল করে রাখা ফরজ।

স্বামী স্ত্রী পরস্পর গোপনাঙ্গ ভোগ করার অধিকার রাখে। তাই তারা একে অপর থেকে ঢেকে রাখার প্রয়োজন নেই।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন –

অনুবাদ ‘ তারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের পরিধেয় আর তোমরা তাদের পরিধেয়।’ (সুরা বাকারা)

মুফাসসিরিনে কেরাম এই আয়াতের কয়েকটি ব্যাখ্যা পেশ করেছেন।

১. পোশাক যেমন মানুষের গোপনাঙ্গ দেখে কিন্তু কারো কাছে তা বর্ণনা করে না ঠিক একইভাবে স্বামী স্ত্রী একে অন্যের গোপনাঙ্গ দেখে কিন্তু তার বিবরণ অন্যকে শুনায় না।

২. পোশাক যেমন শীত ও গরমে মানুষকে আরাম দেয় ঠিক একইভাবে স্বামী স্ত্রী একে অন্যের জন্য সুখ ও আরামের ঠিকানা।

৩. পোশাক থেকে যেমন গোপনাঙ্গকে গোপন রাখা যায় না ঠিক একইভাবে স্বামী স্ত্রী একে অপর থেকে নিজেদের গোপনাঙ্গ গোপন রাখতে হয় না।

যেহেতু স্বামী স্ত্রী একে অপর থেকে গোপনাঙ্গ ঢেকে রাখতে হয় না তাই তারা এক সাথে উলঙ্গ হয়ে ঘুমাতে অসুবিধা নেই।

স্বামী স্ত্রী উলঙ্গ হয়ে ঘুমানো বৈধ থাকার রেফারেন্স

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বলেন –

তোমার স্ত্রী ও বাঁদী ছাড়া অন্য সকল মানুষ থেকে তুমি তোমার লজ্জাস্থান হেফাজত করো। (তিরিমিজি শরিফ)

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দুপুর বেলায় ঘুম ও রেস্টের সময় মানুষের ঘরে প্রবেশ কালে অনুমিত গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে বলেন –

‘দুপুর বেলায় যখন তোমরা তোমাদের বস্ত্র ফেলে দাও।’ (সুরা নুর – ৫৮)

মুফাসসিরগণ বলেন এটা কাইলুলার সময়ের কথা বলা হয়েছে। কেননা মানুষ সেই সময়ে নিজ স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং বিবস্ত্র থাকে।

তাই স্বামী স্ত্রী একসাথে উলঙ্গ হয়ে ঘুমাতে অসুবিধা নেই।

এরকম ভাবে যদি কেউ একা ঘুমায় আর অন্য কেউ তার ঘরে উঁকি মারার সম্ভাবনা না থাকে তখনও সে উলঙ্গ হয়ে ঘুমাতে পারবে। সে নারী হোক বা পুরুষ।

আয়িশা – রাদিয়াল্লাহু আনহা – বলেন

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – আমার ঘরে আসার রাত্রি আসলে তিনি আমার কাছে আসলেন।
এসে তার চাদর রেখে দিলেন। জুতাদ্বয় খুলে পায়ের কাছে রেখে দিলেন। অতপর চাদরের এক পাশ তার বিছানায় মেলে শুয়ে পড়লেন।

তিনি একটু সময় শুয়ার পরে মনে করলেন আমি ঘুমিয়ে গেছি। তাই তিনি তার চাদর পরিধান করে দরজা খোলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

অতপর আমি আমার ওড়না ও চাদর পরিধান করে তার পেছনে পেছনে চললাম। অবশেষে তিনি জান্নাতুল বাকি- তে গেলেন। ( মুসলিম শরিফ)

এই হাদিস থেকে বুঝা যায় আয়িশা – রাদিয়াল্লাহু আনহা – রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর সাথে বিবস্ত্র হয়ে ঘুমাতেন।

2 thoughts on “ইসলামে স্বামী স্ত্রী ঘুমানোর নিয়ম”

  1. মাশাআল্লাহ অসাধারণ পোস্ট

    Reply

Leave a Comment