স্ত্রীর গোপনাঙ্গ চুষা ও চুমু খাওয়ার বিধান কী? একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মুখ দেওয়া চুমু খাওয়া – একদিন এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে বলছিলো বিয়ের পর সে তার স্ত্রীর গোপনাঙ্গ চুমু তো খাবেই না। এমনকি কখনো থাকিয়েও দেখবে না।

অপর বন্ধু তার এই অনাগ্রহের কারণ জানতে চাইলে সে বললো – এটা না কি পশু প্রবৃত্তিক যৌন কর্ম।

কিন্তু দ্বিতীয় বন্ধু তার এই উত্তরটি শুনে রেগে আগুন। তার যুক্তি চুমু হলো ভালোবাসা প্রকাশের উত্তম মাধ্যম।

চাই সেই চুম কপালে হোক বা গালে বা বুকে বা নাভিকূপে বা গোপনাঙ্গে। সারা শরীরের অনুভূতি ও অধিকার সমান।

আল্লাহ তায়ালা যে স্ত্রীর সাথে সহবাস হালাল করে দিয়েছেন সেই মেয়ের গোপনাঙ্গ না দেখার মধ্যে কোনো যৌক্তিকতা নেই।

প্রিয় পাঠক, এই দুই বন্ধুর গল্পে কে সঠিক? প্রথম বন্ধু না কি দ্বিতীয় বন্ধু? ইসলামি বিধানে তাদের যুক্তি ও দাবির মূল্যায়ন কেমন?

আজকের ব্লগে আমরা – ইসলামে স্ত্রীর গোপনাঙ্গ চুমু খাওয়ার বিধান কি? বিষয়টি দালিলিক ভাবে স্পষ্ট করার চেষ্টা করছি।

স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মুখ দেওয়া চুমু খাওয়া – হালাল না কি হারাম?

সহজভাবে বলতে গেলে বলা যায় – স্ত্রীর গোপনাঙ্গে চুম্বন করা বৈধ। তবে তার নানান দিক ও হুকুম বুঝতে হলে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।

ইসলামে স্বামী স্ত্রীর শারীরিক ভোগের ক্ষেত্রে মূল হচ্ছে বৈধতা। তাই তারা তাদের ইচ্ছা ও চাহিদার ভিত্তিতে যৌনসম্ভোগ ও আনন্দ লাভ করতে পারবে।

স্বামী স্ত্রীর যৌনসম্ভোগকে স্বাধীনতা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন –

স্ত্রী গোপনাঙ্গে মুখ দেওয়া

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বিচরণ করো।’ ( সুরা বাকারা – ২২৩ )

অপর আয়াতে বলেন –

তারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের পরিধেয় আর তোমরা (স্বামীগণ) তাদের পরিধেয়।’ (সুরা বাকারা – ১৮৬)

এই দুটি আয়াত স্বামী স্ত্রীর যৌনকর্মে অবাধ স্বাধীনতা দিচ্ছে। যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে তারা একে অন্যকে ভোগ করতে পারবে।

চাই মূল্যবান অলংকার ও বস্ত্র পরিয়ে রূপ সৌন্দর্য উপভোগ করুক বা সমস্ত শরীর অনাবৃত করে একে অপরের গোপনাঙ্গে দেখে উপভোগ করুক।

চাই শুয়ে বসে দাঁড়িয়ে সহবাস করুক বা যৌনাঙ্গ লেহন চুষণ ও স্পর্শ করে উপভোগ করুক

তবে মৌলিকভাবে স্বামী স্ত্রী যৌনসম্ভোগের ক্ষেত্রে সকল পথ পন্থা বৈধ হলেও দুটি বিষয়ে গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।

যে দুটি বিষয় লক্ষ্য রাখা আবশ্যক

প্রথম হলো – যে সব বিষয়ে স্পষ্টভাবে নিষেধ এসেছে সেগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।

যেমন অ্যানাল সেক্স, স্ত্রীর হায়েজ-নেফাস চলাকালীন সময়ে সহবাস, ফরজ রোজা অবস্থায় সহবাস, হজ ও উমরার ইহরাম অবস্থায় সবহবাস ইত্যাদি।

অ্যানাল সেক্স নিষেধ করে রাসুলুল্লাহ বলেন –

‘সে ব্যক্তি অভিসপ্ত যে তার স্ত্রীর সাথে পায়ুকাম বা অ্যানাল সেক্স করে।’ ভিন্ন শব্দে আছে ‘আল্লাহ তায়ালা সেই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না, যে তার স্ত্রীর পাযুপথে সহবাস করেছে।’ (আবু দাউদ – ২১৬৪)

স্ত্রী গোপনাঙ্গে মুখ

এভাবে হায়েজ ও নেফাস অবস্থায় সহবাস নিষেধ করে বলেন –

যে ব্যক্তি ঋতুস্রাবগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে বা স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস করলো বা গণকের কাছে এসে তার কথা বিশ্বাস করে নিলো, সে প্রকৃত পক্ষে মুহাম্মাদের উপর অবর্তীণ সবকিছু অস্বীকার করলো।’ ( তিরিমিযি – ১৩৫ )

ঠিক একইভাবে ফরজ রোজা ও ইহরাম অবস্থায় সহবাসকে ভিন্ন ভিন্ন দলিলের ভিত্তিতে নিষেধ করা হয়।

দ্বিতীয় হলো – যৌনসম্ভোগে যে সব আচরণ – প্রশংসনীয় মনুষ্য স্বভাব, উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাভাবিক রুচি পরিপন্থী সে সব আচরণ থেকে বিরত থাকা উত্তম।

এই নীতির আলোকে অনেক আলেম ওরাল সেক্স না করার প্রতি উৎসাহ দিয়ে থাকেন। কেননা ওরাল সেক্স অনেকটা রুচি পরিপন্থী।

কিন্তু আজ আমরা যে মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করছি সেটা ওরাল সেক্স বা যৌনাঙ্গ চুষা নয়। বরং এটা হচ্ছে কেবল গোপনাঙ্গ চুমু খাওয়া বা মুখ দেওয়া। তাই এটা সম্পূর্ণ বৈধ।

অনেক ইমাম ও মুহাদ্দিস এটাকে বৈধ বলে অভিমত দিয়েছেন। নিচে এমন কতিপয় অভিমত তুলে ধরছি।

স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মুখ দেওয়া বৈধ – অভিমত ও রেফারেন্স

এক – ইমাম ইবনু আবিদিন (হানাফি) – রাহিমাহুল্লাহ – বলেন –

ইমাম আবু ইউসুফ – রাহিমাহুল্লাহ – ইমাম আবু হানিফা – রাহিমাহুল্লাহ – কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন যে তার স্ত্রীর যৌনি স্পর্শ করে।

এবং স্ত্রীও তার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে। যাতে সে উত্তেজিত হতে পারে। এটা কি অসুবিধা?

ইমাম আবু হানিফা বলেন না এতে কোনো অসুবিধা নেই। বরং আমি আশা করি সওয়াব লাভ করবে। ( রাদ্দুল মুহতার)

দুই – কাজি ইবনুল আরবি (মালিকি) বলেন –

স্বামী তার স্ত্রীর গোপনাঙ্গ দেখতে পারেব কি না এ ব্যপারে মতবিরোধ আছে। একটি মত হলো বৈধ।

কেননা যার গোপনাঙ্গ সম্ভোগ বৈধ তার গোপনাঙ্গ দেখা আরো সহজভাবে বৈধ হওয়ার কথা।

তিন – আসবাগ – রাহিমাহুল্লাহ- বলেন – জিহবা দ্বারা স্ত্রীর যৌনি চাটা বৈধ।

চার – মাওয়াহিবুল জালিল শারহু মুখতাসারি খালিল গ্রন্থে বলা হয় –

ইমাম আসবাগকে বলা হলো কিছু মানুষ স্ত্রীর যৌনিতে মুখ দেওয়াকে মাকরুহ মনে করছেন। তিনি বলেন যারা এটাকে মাকরুহ বলছেন তারা শরয়ি হুকুম হিসাবে তা বলছেন না।

বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বলছেন। এটাতে কোনো অসুবিধা নেই। এটা মাকরুহ নয়।

ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করা হয় তিনি বলেছেন সহবাসের অবস্থায় স্ত্রীর গোপনাঙ্গে দৃষ্টিপাত করতে অসুবিধা নেই। অন্য বর্ণনা মতে জিহবা দ্বারা চাটতে অসুবিধা নেই।

পাঁচ – ইমাম ফিনানি (শাফিয়ি) বলেন –

স্বামীর তার স্ত্রীর সাথে অ্যানাল সেক্স ব্যতীত সর্বপ্রকার সম্ভোগ করতে পারবে। যদিও গোপনাঙ্গ চুষে উপভোগ করুক না কেন।

ছয় – ইমাম আল মারদাবি ( হাম্বলি) ‘আল ইনসাফ’ গ্রন্থে বলেন –

সহবাসের আগে স্ত্রীর গোপনাঙ্গ চুমু খাওয়া বৈধ। তবে সহবাসের পরে মাকরুহ। ঠিক একই ভাবে স্ত্রী তার স্বামী যৌনাঙ্গ চুমু খেতে পারবে।

সাত – স্বামী স্ত্রী যৌনসম্ভোগ মৌলিকভাবে বৈধ। তাই কুরআন বা হাদিসের স্পষ্ট দলিল না পাওয়া পর্যন্ত যৌনসম্ভোগের কোনো পন্থাকে নিষেধ বলা যাবে না।

আট – যখন স্ত্রীর সাথে সহবাস বৈধ তখন সহবাসের চেয়ে ছোট জিনিস বৈধ না হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মুখ দেওয়া – চুমু খাওয়া ও একটি সতর্কীকরণ

যদি স্ত্রীর যৌনি বা স্বামীর যৌনাঙ্গে মুখ দিলে কোনো রোগ সৃষ্টি হবে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় তবে সেখানে মুখ লাগানো আর বৈধ থাকবে না।

কেননা রাসুলুল্লাহ বলেছেন –

ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও ক্ষতি করা ইসলামে নেই। ( ইবনে মাজাহ)

অনুরূপভাবে যদি স্বামী বা স্ত্রী কোনো একজন অপরজনের গোপনাঙ্গে মুখ দিতে না চায় তবে তাকে বাধ্য করা যাবে না।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুআনে বলেন –

তাদের সাথে উত্তম পন্থায় মিলামেশা করো ( নিসা – ১৯)

স্ত্রীর গোপনাঙ্গ চুমু খাওয়া ও কয়েকটি প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন এক – অনেকে বলে থাকেন গোপনাঙ্গে নাপাকির স্থান। তাই সেখানে মুখ লাগালে মুখে নাপাকি লেগে যাবে। এ জন্য গোপনাঙ্গে মুখ লাগানো যাবে না। এটা কথা কি ঠিক?

উত্তর – গোপনাঙ্গ নাপাকি বের হওয়ার স্থান। অর্থাৎ এই স্থান দিয়ে নাপাক বের হয়। কিন্তু নাপাক জিনিস বের হওয়ার পর সেই স্থান ধৌত করে নিলে তা আর নাপাক থাকে না।

যেমন শরীরের যে কোনো স্থান থেকে যদি নাপাক জিনিস যেমন রক্ত পুঁজ বের হয় অতপর সেই স্থান ধুয়ে মুছে সাফ করে নেওয়া হয় তাহলে সেই স্থান আর নাপাক থাকে না।

তাছাড়া গোপনাঙ্গ যদি নাপাক হয়ে থাকে তাহলে ঐ স্থান নিয়ে নামাজ পড়া বৈধ হয় কীভাবে? নাপাক জিনিস নিয়ে তো নামাজ বৈধ হওয়ার কথা নয়।

যারা বলেন গোপনাঙ্গ নাপাক হওয়ার কারনে সেখানে মুখ লাগানো উচিত নয় তারা কি নামাজের সময় গোপনাঙ্গ শরীর থেকে আলাদা রেখে নামাজ আদায় করার কথা বলবেন?

সুতরাং গোপনাঙ্গ যেহেতু নাপাক নয় তাই সেখানে মুখ লাগিয়ে চুমু খেতে অসুবিধা নেই।

প্রশ্ন দুই – অনেকে আলেম ওরাল সেক্স বা মুখ মৈথুন না জায়েজ বলে থাকেন। এটা কি ওরাল সেক্স নয়? তাহলে এটা জায়েজ হয় কীভাবে?

উত্তর – প্রথম বিষয় হলো গোপনাঙ্গে চুমু খাওয়া এবং ওরাল সেক্স এক নয়। তাই ওরাল সেক্স নিয়ে কিছু কথা থাকলেও আমাদের আলোচিত বিষয়ে কোনো প্রশ্ন কাম্য নয়।

তাছাড়া ওরাল সেক্স না জায়েজ হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট দলিল নেই। এ জন্য অনেক আলেম ওরাল সেক্সকে জায়েজ বলেছেন।

তবে ওরাল সেক্সের বিষয়ে ইনসাফ ভিত্তিক কথা হলো তা হারাম বা জায়েজ কোনোটি।ই নয়। বরং ওরাল সেক্স অনুত্তম একটি কাজ।

ওরাল সেক্স নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমার এই ব্লগটি পড়তে পারেন

6 thoughts on “স্ত্রীর গোপনাঙ্গ চুষা ও চুমু খাওয়ার বিধান কী? একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ”

  1. মাসাল্লাহ নিভরযোগ্য দলিলের পাশাপাশি যুক্তি সংগত কথা বলেছেন । জাযাকাল্লাহ

    Reply
  2. দলিল ভিত্তিক সুন্দর আলোচনা।ধন্যবাদ!

    Reply
  3. বিভিন্ন মাসলাক এর আলেম রদের যে মত দিয়েছেন তার দালায়িল কই ?

    Reply
  4. যেমন ইমাম ফিনানি রঃ , আসবাগ রহিমাহুললাহ আর কথার দলিল পেশ করেন হজরত ।

    Reply
  5. দলিলের হাওলা দেওয়া উচিৎ।।

    Reply
  6. স্ত্রীর নাভি কি তার গোপনীয় অঙ্গের মধ্যে পড়বে??..
    স্ত্রীর নাভিতে চুমু খাওয়া কি ইসলামি শরীয়ত সমর্থন করে?…

    Reply

Leave a Comment