বিট কয়েন কি? পরিচয় ও ইতিহাস

বিট কয়েন কি : এই প্রশ্নের উত্তরটি জানার জন্যই আপনি যদি আমার ওয়েব সাইটে এসে থাকেন তবে নিরাশ হবেন না।

বিট কয়েন কি? তার জন্ম কীভাবে হলো? বিট কয়েনের সুবিধা ও অসুবিধা – এ সবকিছু বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে আজকের পোস্টটি লিখতে যাচ্ছি।

তাই মনযোগী হয়ে পুরো আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন। শেষ পর্যন্ত পড়ার পর দেখবে আপনার মনের প্রায় সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন। 

ব্লগটিতে থাকছে

বিট কয়েন কি – পরিচয়

বিটকয়েন হলো – একটি ইলেট্রিক মুদ্রা, সংক্ষেপে বলা হয়  BTC। বহু ক্ষুদ্র একক বা সাতোশি মিলে একটি পূর্ণ বিট কয়েন হয়।

একটি বিটকয়েন সমান ১০০০ মিলি বিটকয়েন বা এক কোটি সাতোশি।

বিট কয়েনকে বলা হয় ক্রিপ্টকারেন্সি জগতের কিং। ক্রিপ্টো অর্থ গোপন আর কারেন্সি অর্থ মুদ্রা ব্যবস্থা। সুতরাং ক্রিপ্টকারেন্সি মানে দাঁড়ায় গোপন মুদ্রা ব্যবস্থা। 

যেহেতু ক্রিপ্টকারেন্সি জগতে প্রচলিত কয়েনগুলো ধরা ছোঁয়া যায় না, কেবল ইলেট্রিক ডিভাইসে  একাউন্ট হিসাব পর্যবেক্ষণ ও লেনদেন করা যায়।

তাই এই প্রকার কারেন্সিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বলা হয়। 

আর বিট কয়েন একটি ক্রিপ্টকারেন্সি ভিত্তিক কয়েন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেটা অনলাইন নির্ভর কারেন্সি ব্যবস্থা। তার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই।

অর্থাৎ কাগুজের মুদ্রার মতো এটি ধরা ছোঁয়া যায় না। কোন ব্যাংক ভল্টে কিংবা ক্যাশ বাক্সে সেটা জমা রাখা যায় না। 

বর্তমানে ১৫ জুন ২০২১ এর হিসাব অনুযায়ী ১ বিটকয়েন সমান প্রায় ২৯৬৮৩২৮ টাকা।

বিট কয়েন কি

বিট কয়েনের ইতিহাস

একুশ শতাব্দীকালের শুরু লগ্ন থেকে মানুষ যান্ত্রিক জীবন ব্যবস্থায় অবস্থ হতে লাগে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সকল অঙ্গন হয়ে ওঠে ইলেকট্রিক যন্ত্র নির্ভর।

যখন চলার বাহন কথা বলার মাধ্যম যুদ্ধের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ থেকে নিয়ে সকল কিছু ইলেকট্রিক মাধ্যমে চলছে।

তখন লেনদেন মাধ্যম মুদ্রা ব্যবস্থা কেনই বা কাগুজের নোটে হাতের মুঠোয় বা মানি ব্যাগে থাকবে?

সময়ের গতিই বলে দিচ্ছিলো এই শতাব্দীকালে কারেন্সি সিস্টেমে বিরাট পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।কাগজের মুদ্রা ইলেকট্রিক হতে যাচ্ছে। 

সেই গতিকে ও আহ্বান কাজে লাগিয়ে ২০০৯ সালের দিকে জন্ম হয় বিট কয়েন নামে একটি ভার্চুয়াল কয়েনের।

অতপর এই কয়েনটি খুব দ্রুত সারা বিশ্বে বেশ গ্রহণযোগ্যতা পায়। সা‌তো‌সি নাকা‌মো‌তো নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এর উদ্ভাবন করেন।

কিন্তু সে বা তারা কোন দেশ থেকে এটি পরিচালনা করছে সেটা আজ পর্যন্ত অজানা।

প্রথম দিকে এর বাজার মূল্য ছিলো ১৩০৯ বিটকয়েনে ১ ডলার ছিলো বা বাংলাদেশি টাকায় ১৩০৯ বিট কয়েন সমান ৮৩ টাকা।

কারা বিট কয়েন পরিচালনা করছে?

বিট কয়েন উদ্ভাবনকারী ব্যক্তি বা সংঘ শুরু থেকেই তাদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করে আসছে। তাই এখন পর্যন্ত কেউই তাদের পরিচয় উন্মোচন করতে পারেনি।

তবে এটা নিশ্চিতভাবে বলা চলে প্রযুক্তি বিদ্যায় ব্যাপক শক্তিশালী একটি দল এই কয়েনটি পরিচালনা করে আসছে। 

তাই বিট কয়েন নিয়ন্ত্রণকারী কোনো দেশ বা ব্যাংক নেই। এটি কোনো একটি শক্তিশালী গোপন সংঘ দ্বারা বৈশ্বিকভাবে পরিচালিত।

পরিচলনা ও সংরক্ষণ সিস্টেম

বিট কয়েন মূলত ব্লক চেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত ও সংরক্ষিত হয়ে আসছে। কিন্তু ব্লকচেইন কি?

ব্লকচেইন – মূলত এক প্রকার শক্তি। যা বিট কয়েনকে গতিশীল করে। বিট কয়েন ট্রান্সফার  সহজ করে এবং সবরকম লেনদেন তথ্য রেকর্ড করে রাখে।

আরেকটু সহজভাবে বলা যায় – মনে করুন আরাফাত প্রচলিত ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রামে তার বাবা কাসিমকে পাঁচ হাজার টাকা সেন্ট করলেন। 

এখন আমরা এই লেনদেনকে বিশ্লেষণ করে বলতে পারি আরাফাত হচ্ছেন প্রথম পক্ষ। তার বাবা কাসিম হলেন দ্বিতীয় পক্ষ। আর ব্যাংকিং সিস্টেম হলো তৃতীয় পক্ষ। 

এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি এই তিনটি পক্ষের কার্যকলাপের ফলাফল হিসাবে একটি আর্থিক লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে গেলো। 

আর এই দুজন ব্যক্তির মধ্য আর্থিক লেনদেন সুবিধা দিতে যতো কিছুর দরকার হয় তার সবটাই ব্যাংক দিয়ে থাকে। এই সিস্টেমটির সাথে আমরা ব্যাংকিং সিস্টেম নামে পরিচিত।

ব্যাংকিং ব্যবস্থা বুঝতে পারলে আপনার জন্য ব্লকচেইন বুঝা সহজ হবে। ব্যাংকিংকে সিস্টেম দিয়ে ব্লকচেইন বুঝতে পারেন।

তবে ব্লকচেইন  সিস্টেম আর ব্যাংকিং সিস্টেম মোটেও এক নয়।
​​

উপরের ভদ্রলোক ১০ জন বন্ধুকে টাকা পাঠাবেন এবং আবার এই কয়েকজন একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে কোন এক মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে পারে। 

বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার করি। ধরুন আরাফাত তার দশ জন বন্ধুকে টাকা পাঠাবে। আবার এই

কয়েকজন সংযুক্ত হয়ে কোনো একটি মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে পারে।  
এখন দশ জনের আন্তঃসংযোগের ধাপটি লক্ষ্য করুন।

তারা যেহেতু একে অপরের সাথে সংযুক্ত তাই একে অন্যের একাউন্ট সম্পর্কে ধারণা রাখে।
এখানেই ব্লকচেইনের আসল মজা।

কারণ প্রতিটি লেনদেনকালে সংযুক্ত প্রত্যেক একাউন্ট অটোমেটিক আপডেট নেয়। এটাই হলো ব্লক চেইনের সুবিধা।

প্রতিটি ব্লকচেইন হ্যাশিং এর মাধ্যমে উচ্চ মানের নিরাপত্তা তৈরি করতে সক্ষম হয়। যার ফলে এটা হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। 

বিট কয়েন কি

বিট কয়েন কি আয় কারা যায়?

বিটকয়েন উপার্জন করার নানান উপায় আছে। তার যে কোনো একটি উপায় অবলম্বন করে বিট কয়েন আয় করা সম্ভব।

বিটকয়েন আয় করার কয়েকটি পন্থা নিচে আলোচনা করছি।

মাইনিং পদ্ধতিতে বিট কয়েন আয়

বিট  কয়েন আয়ের প্রফেশনাল  পদ্ধতি  হলো  মাইনিং পদ্ধতি।  এই পদ্ধতিতে মূল বিট কয়েন তৈরি করা হয়। 

তাই এটাকা বিট কয়েন আর্নিং না বলে বিট কয়েন মেকিং বলা অধিক যুৎসই হবে।  

বিটকয়েন মাইনিং পদ্ধতিতে উচ্চ মাত্রার গ্রাফিক্স ক্ষমতা সমপন্ন কম্পিউটার দ্বারা জটিল গাণিত  ধাঁধা সমাধানের মাধ্যমে  বিট কয়েন  তৈরি করা হয়।

টাকা ইনভেস্ট করে বিট কয়েন উপার্জন

বিট কয়েন লাভের আরেকটি উপায় হলো টাকা ইনেভেস্ট। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে বিট কয়েন কেনা বেচা হয়।

সেখান থেকে বিট কয়েন কিনে অতপর সেটি দ্বারা আরো বিট কয়েন আয় করা সম্ভব। 

তবে বিট কয়েন আর্নিং ও তা সম্পর্কিত জ্ঞান না থাকলে বিট কয়েনে ইনভেস্ট করে নিজের ক্ষতি ছাড়া কিছুই লাভ হবে না। 

ওয়েব সাইট থেকে বিট কয়েন কি আয় করা যায়

ক্রিপ্টকারেন্সি জগতে হাজার হাজার ওয়েব সাইট আছে। যেখানে ছোট ছোট কাজের বিনিময়ে ভার্চুয়াল কয়েন লাভ করা যায়।

আবার কোনো কোনো সাইটে সরাসরি বিট কয়েনের ক্ষুদ্র একক বা সতোশি দেওয়া হয়। এক কোটি সতোশি মিলে একটি বিট কয়েন হয়।

অতপর ঐ কয়েনগুলো বিট কয়েনে রূপান্তর করা যায়।   

এপস থেকে বিট কয়েন আয়

বর্তমানে মোবাইল এপস দ্বারাও বিট কয়েন আ য়। করা যায়। ছোট খাট নানন কাজ বা গেম খেলার বিনিময়ে তারা সতোশি দেয়ে থাকে। 

এটা যেহেতু ইনভেস্ট ছাড়াই কেবল সময় ও শ্রম দিয়ে সম্ভব তাই বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

কিন্তু বিট কয়েনের দাম বাড়ার সাথে সাথে ইনকাম খুব কম দেওয়া হচ্ছে।

পরিশ্রম ও সময়ের তুলনায় এ ইনকাম খুবই অল্প। তবু যেহেতু বিট কয়েন। যার ফিউচার অত্যন্ত হাই হতে যাচ্ছে তাই এটা পেছেনেও দৌড়াচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

এছাড়াও আরও অনেক পদ্ধতিতে বিট কয়েন আর্ন করা যায়। বিটকয়েন আয়ের পকল প্লাটফর্ম লিগ্যাল নয়। বিট কয়েনের নামে প্রতারণার নজিরও কম নয়।

বিট কয়েন কি – সুবিধা ও অসুবিধা

অনলাইন জগতে অর্থ লেনদেন সিস্টেমে বিটকয়েনের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নানামুখী সুবিধা থাকার ফলে ডলার বা টাকার প্রচলন কমিয়ে ইলেকট্রিক মুদ্রার ব্যবহার বাড়াচ্ছেন সাধারণ জনতা।

শেয়ারবাজার থেকে নিয়ে প্রায় প্রত্যেক সেক্টরে বিট কয়েনের চাহিদা আকাশচুম্বি। কিন্তু এই কয়েনটির সুবিধা থাকলেও অসুবিধা রয়েছে অনেক।

বিট কয়েনের সুবিধা

  • এটা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় যো কোনো কাজে ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ একেক দেশে একেক মুদ্রা ব্যবহারের প্রয়োজন থাকে না। বরং সকল বিট কয়েন ব্যবহার করা যায়। 
  • বিট কয়েন এক্সচেঞ্জ করার ঝামেলা নেই।  অর্থাৎ তৃতীয় আরেকটি মাধ্যম দ্বারা তা এক্সচেঞ্জ করার দরকার পড়ে না। এতে এক্সচেঞ্জ কস্ট সেফ করা যায়।
  • বিশ্বের নামিদামি প্রায় প্রতিষ্ঠান বিট কয়েন গ্রহণ করা শুরু করেছে। তাই যে কোনো লেনদেনে  মাস্টারকার্ড ছাড়াই বিট কয়েন দিয়েও পেমেন্ট করা যায়।

বিট কয়েনের অসুবিধা

  • এই কয়েনটি যেহেতু কোনো সরকার দেশ নিয়ন্ত্রণ করে না তাই এটার দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হলে তার ডকুমেন্ট থাকে না। এটির প্রচলন অপরাধের নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশংকা করা হয়। 
  • ভুল একাউন্টে বিট কয়েন পাঠালে তা আর পুনরুদ্ধার করার কোনো উপায় থাকে না। রিফান্ড পলিসি ভালো না থাকায় অনেক ক্ষতি গুণতে হয়।
  • এটি কোনো গুপ্ত সংঘ তাদের কোনো বৃহৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

বিটকয়েন ও বাংলাদেশ

বাংলাদেশে এই পোস্ট লেখার সময় পর্যন্ত সরকারীভাবে বিটকয়েন নিষিদ্ধ। যারা বিটকয়েনে সাথে জড়িত তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তাই বাংলাদেশে একখনও বেশিভাগ মানুষ বিকয়েনে সাথে পরিচিত নয়। তবে চুপিসারে অনেকে এই কয়েনটি দ্বারা লেনদেন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আর বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সময়ের প্রেক্ষাপটে বিট কয়েন বা অন্য যে কোনো ভার্চুয়াল কয়েন বাংলাদেশে অনুমোদিত হতে পারে।

সাম্প্রতিকালে বাংলাদেশের অর্থনীতিবিগণ এ রকম ইলেকট্রকি কয়েনের প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

কিছুদিন আগে ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তফা জব্বার সাহেব ‘টাকাকে আর কাগজের নোট দেখতে চাই না’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তার এ বক্তব্য থেকে ধারণা কারা যায় বাংলাদেশ সরকারও কারেন্সি সিস্টেমকে ইলেকট্রিক করার পথে হাঁটছো।

বিট কয়েন কি হারাম?

বিট কয়েন নিয়ে ইসলামি স্কলারগণ ডিটেলস গবেষণা করে আসছেন। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দারুল ইফতা থেকে এটিকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে অনেকে বিট কয়েন সত্তাগত দিক থেকে হারাম নয় বলে মত দিয়েছেন। অর্থাৎ এই কয়েনটি উপার্জন বা ব্যয়ে যদি অন্য কেনো হারাম পন্থায় জড়িত না হয় তবে সেটি হারাম হবে না।

বিট কয়েন হারাম না কি হালাল এই বিষয়টি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে আমি একটি পরিপূর্ণ আর্টিকেল পাবলিশ করেছি।

এই লিংকে ক্লিক করে পোস্টটি পড়লে বিটকয়েন হারাম না কি হালাল তা সবিস্তারে জানতে পারবেন।

Leave a Comment