বদলি হজ – বদলি উমরা বৈধ কি না

প্রশ্ন – মৃত বা জীবিত কোনো ব্যক্তির বদলি হজ বা উমরা করা যাবে কি না ?

উত্তর – ইবাদাতে বদনি বা যে সব ইবাদাত কেবল শারীরিক কষ্টের সাথে সম্পর্ক রাখে –

যেমন সালাত সিয়াম তেলাওয়াতুল কুরআন ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব বা একজনের হয়ে অন্যজন আদায় করা শুদ্ধ নয়।

তবে ইবাদতে মালি বা যে সব ইবাদাতে কেবল অর্থ খরচ হয় যেমন দান সাদকা করা বা মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ করে দেওয়া ইত্যাদি –

বিষয়াদির ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব জায়েয রয়েছে তাই এসব কাজ এক জনের হয়ে অন্যজন আদায় করতে পারে।

কিন্তু যে সব ইবাদাত শারীরিক কষ্ট ও অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে আদায় করতে হয় যেমন হজ ইত্যাদি তার মধ্যে প্রতিনিধিত্ব জায়েয হওয়া না হওয়া নিয়ে মতানৈক্য আছে।

তবে হাদিসের ভাষ্য প্রতিনিধিত্ব জায়েয হওয়ার মতটিকে সমর্থন করে।

তাই হজ বা উমরা বদলি আদায় করতে পারবে। চাই যার জন্য হজ বা উমরা করা হবে সে জীবিত হোক বা মৃত হোক।

তবে জীবিত ব্যক্তির বদলি হজ বা উমরা শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হলো সে ব্যক্তি বয়োবৃদ্ধি বা রোগাক্রান্ত ইত্যাদি কারণে শারীরিকভাবে হজ বা উমরা করতে অক্ষম হতে হবে।

কিন্তু হারাম টাকা দ্বারা হজ বা উমারা করলে যেহতেু হজকারী নিজেই সওয়াব পায় না তাই অন্য কেউও সওয়াব প্রাপ্ত হবে না।

বদলি হজ – বদলি উমরা ও দালায়িাল

আবু রাযিন আল উকাইরি থেকে বর্ণিত –

‘তিনি নবি – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ‘র কাছে গিয়ে বললেন – হে আল্লাহর রাসুল, আমার পিতা অতি বৃদ্ধ। তিনি হজ ও উমরা করতে এবং বাহনে চড়তে সক্ষম নন।

নবি – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বললেন তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ ও উমরা আদায় করে নাও। ( তিরমিযি – ৯৩০ )

ইবনে আব্বাস – রাদিয়াল্লাহু আনহু – বর্ণনা করেন –

‘জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা নবি – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – কে বললো, আমার মাতা হজ করার জন্য মান্নাত করেছিলেন।

কিন্তু তিনি সেই হজ করার আগেই মৃত্যু বরণ করেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করে নিবো ?

তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ! তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে হজ আদায় করে নাও।

তুমি কী মনে করো যদি তোমার মায়ের কাছে কারো পাওনা থাকতো তুমি কি আদায় করতে না ?

আল্লাহর পাওনা আদায় করো। কেননা আল্লাহ তায়ালা প্রাপ্য পাওয়ার অধিক হকদার।’ (সহিহ বুখারি – ১৭৫৪)

আলমাউসুআতুল ফিকহিয়্যাতুল কিয়িতিয়্যাহ গ্রন্থে বলা হয় –

‘আর্থিক ও শারীরিক শ্রম মিশ্রিত ইবাদত হলো হজ ও উমরা। সংখ্যাগরিষ্ঠ ফিকাহবিদ অন্যের পক্ষ থেকে হজ আদায় করাকে বৈধ হওয়ার মতামত দিয়েছেন।’

( আলমাউসুআতুল ফিকহিয়্যাতুল কিয়িতিয়্যাহ – ৪২/৩১ )

আরবের প্রসিদ্ধ ফিকহি সংস্থা ‘আল লাজনাতুত দায়িমাহ’ কে করা একটি প্রশ্নের উত্তরে বলা হয় –

অনুবাদ তুমি তোমার নিজের উমরা সম্পন্ন করার পর তোমার পিতা ও মাতার পক্ষ থেকে উমরা আদায় করা জায়েয হবে।

যখন তোমার পিতা মাতা বয়োবৃদ্ধ বা দুরারোগ্যে আক্রান্ত হওয়ার কারণে শক্তি সামর্থহীন হয়ে পড়বে।

যেভাবে তোমার জন্য তোমার মৃত-পিতা মাতার পক্ষ থেকে উমরা করা জায়েয আছে। (ফাতাওয়া আল লাজনাতুত দায়িমাহ – ১১/৮১)

আল্লাহ তায়ালা সর্বোপরি সর্বজ্ঞ

উত্তর লিখনে
শাহ মুহাম্মাদ সুহাইল.

Leave a Comment