গর্ভধারণের দোয়া ও আমল – বিস্তারিত আলোচনা

গর্ভধারণের দোয়া – আমি এক দম্পতিকে দেখেছিলাম। তারা সুরম্য অট্টালিকায় বাস করতো। বাজারের সবচেয় দামি গাড়িটি চড়ে বড়াতো।

তাদের অর্থ সম্পদের সঠিক পরিমাণ করা ছিলো অসাধ্য। চারক চাকরানি ও সেবকরা চারপাশে ঘুরঘুর করতো।

কিন্তু এতো কিছুর পরও তারা মানসিকভাবে ছিলো বিষন্ন। তাদের পৃথিবীকে তারা কুয়াশাচ্ছন্ন দেখতো। জীবনকে মনে করতো অর্থহীন।

কারণ তাদের কোনো সন্তান ছিলো না। তারা শতো চেষ্টা করেও একটি সন্তান লাভ করতে পারছিলো না। তারা অনুভব করেছিলো সন্তান ছাড়া ধন-সম্পদ সম্মান – স্তুতি সবই মূল্যহীন।

সন্তানই হচ্ছে সুখের প্রধান উৎস। সন্তান আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত একটি বিশেষ নিয়ামত। সন্তানই পৃথিবীতে নিজ বংশ পরিচয় ও চিহ্ন জীবিত রাখার একমাত্র মাধ্যম।

যারা বিয়ের দীর্ঘদিন পার করার পরও একটি সন্তান লাভ করতে পারেন নি তারাই কেবল সন্তানহীন থাকার মর্ম বেদনা অনুভব করতে পারে।

তারা নতজানু হয়ে সন্তান লাভের উপায় খুঁজে। গর্ভধারণের জন্য আকাশের মালিকের দিকে হাত তুলে ফরিয়াদ জানাতে চান।

তাই আজ আমরা গর্ভধারণের দোয়া নিয়ে আলোচনা করছি। সন্তানহীন দম্পতিরা এই দোয়া করে আরশের মালিকের কাছে হাত পাততে পারেন। আল্লাহ চাইলে আপনার চাওয়া পূর্ণ হবে।

ব্লগটিতে থাকছে –

গর্ভধারণের দোয়া – পবিত্র কুরআন থেকে পাথেয়
হাদিসের নির্দেশনা ও গর্ভধারণের আমল
গর্ভধারণের দোয়া কখন কীভাবে করতে হবে?
অনুপ্রেরণার গল্প – সন্তানহীন দম্পতির পাথেয়
গর্ভধারণ দোয়া ও বিশেষ কিছু কথা

গর্ভধারণের দোয়া – পবিত্র কুরআন থেকে পাথেয়

গর্ভধারণ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তবে পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন নবি ও নেক বান্দাদের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। সেখানে তাদের স্ত্রীদের গর্ভধারণ – সন্তান লাভ ও দোয়া নিয়ে নানান কথা এসেছে।

আমরা তার মধ্য থেকে কয়েকটি দোয়া তুলে ধরবো। এগুলো আপনি হুবহু উচ্চারণ করে অথবা আপনি নিজের মতো, নিজের ভাষায় প্রকাশ করে প্রভুর কাছে চাইতে পারেন।

এক – সায়্যিদুনা যাকারিয়া – আলাইহিস সালাম – নিজের জন্য সন্তান চেয়ে নিচের দোয়াটি করেছিলেন।

رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاء

উচ্চারণ – রাব্বি হাবলি মিল্লাদুনকা যুররিই-ইয়াতান তাই-য়িবাতান। ইন্নাকা সামিউদ্ দুয়া।

অনুবাদ – আমার পালনকর্তা, আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একটি পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি অতিশয় দোয়া কবুলকারী। (সুরা আল ইমরান – ৩৮)

দুই – প্রিয় নবি ইবরাহিম – আলাইহিস সালাম – প্রায় আশি উর্ধ্ব বয়সে আল্লাহ তায়ালার কাছে সন্তান চেয়ে নিচের দোয়াটি করেছিলেন।

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ

উচ্চারণ – রাব্বি হাবলি মিনাস সালিহিন।

অনুবাদ – হে আমার পালনকর্তা, আপনার পক্ষ থেকে আমাকে সৎ সন্তান দান করুন। ( সুরা সাফ্ফাত – ১০০)

তিন – পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নিম্নের দোয়াটিও করা যেতে পারে। আল্লাহ তায়ালা দয়ার দৃষ্টিতে তাকালে হয়তো তা কবুল করে নিবেন।

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا’

উচ্চারণ – রাব্বানা হাব-লানা মিন আযওয়াজিনা ও যুররিই-ইয়াতিনা কুররাতা আ’য়ুনিন ওয়াজ-আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

অনুবাদ – হে আমাদের রব, আমাদের জীবন সাথী ও সন্তান দিয়ে চোখেকে শীতল করুন। আর আমাদেরকে মুত্তকিদের ইমাম বনিয়ে দাও। (সুরা ফুরকান – ৭৪)

চার – পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত দোয়াটি বেশি করে পড়তে পারেন। আশা করি আল্লাহ তায়ালা সাড়া দিবেন।

رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

উচ্চারণ – রাব্বি লা তাযারনি ফারদান। ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসিন।

অনুবাদ – হে আমার রব, আমাকে সন্তানহীন রাখবেন না। আপনিই তো উত্তম অভিভাবক।
(সুরা আম্বিয়া – ৮৯)

গর্ভধাণের দোয়া – হাদিসের নির্দেশনা

বিশ্বনবি মুহাম্মাদ মুস্তফা – সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম – আমাদের সকল বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সন্তানহীন দম্পতি সন্তান লাভের উপায়েও রয়েছ তাঁর নির্দেশনা।

নিজের দোয়াটিকে ইসমে আজম নামে অভিহিত করা হয়। যদিও ইসমে আজম নিয়ে বেশ মতবিরোধ রয়েছে তবুও এই দোয়াটি ইসমে আজম হওয়া নিয়ে একটি বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত রয়েছে।

তাই এই দোয়াটি পাঠ করে নিজের মনের বাসনা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যেতে পারে। আর ইসমে আজম হলো এমন একটি দোয়া যা অবলম্বন করে কোনো কিছু চাইলে আল্লাহ কবুল করে নেন।

বুরাইদা – রাদিয়াল্লাহু আনহু – বলেন, রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম – একজন ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, সে বলছে –

গর্ভধারণের দোয়া ও আমল

অনুবাদ – হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি। সেই সাথে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

আপনি একক অমুখাপেক্ষি। যার সন্তান নেই। তিনিও কারো সন্তান নন। তার সমান কেউ নেই।

অতপর রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বলেন –

সে আল্লাহর কাছে এমন নামের মাধ্যমে প্রার্থনা করেছে যারা মাধ্যমে প্রার্থনা করলে তিনি শ্রবন করেন। আর দোয়া করলে কবুল কলেন।

( এই হাদিসটি তিরিমিযি, আবু দাউদ, নাসাই ও ইবনে মাজা শরীফে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে হিব্বান – রাহিমাহুল্লাহ – এটা সহিহ বলে মত দিয়েছেন। )

গর্ভধাণের আমল – আল্লাহর রহম পাওয়ার উপায়

এক – ইস্তেগফার এমন একটি উপায় যা সমুদ্র সমপরিমাণ পাপকে পূণ্যে পরিণত করতে পারে। আল্লাহ তায়ালার রহমতের দ্বার খুলতে অদ্বিতীয়।

তাই বেশি বেশি ইসতেগফার করলে আল্লাহ তায়ালা দয়াপরশ হয়ে আপনার গর্ভধাণের ফয়সালা করে দিতে পারেন। কয়েকটি ইসতেগফার নিম্নে পেশ করছি।

গর্ভধারণের দোয়া ও আমল

অনুবাদ – হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনার গোলাম।

আমি আপনার সাথে কৃত ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতির উপর যথাসাধ্য অবিচল। আমি সে সব মন্দ থেকে আপনার আশ্রয় চাই যা আপনি সৃষ্টি করেছেন।

আমি আমার উপর আপনার নিয়ামতের অকৃতজ্ঞ হয়েছি। আমি পাপ করেছি। আমি আল্লাহর কাছে মাফ চাচ্ছি। তাঁর কাছে তাওবা করছি।

গর্ভধারণের দোয়া ও আমল

অনুবাদ – হে আল্লাহ, আমি নিজের সাথে অনেক জুলুম করেছি। আল্লাহ ছাড়া কেউ গোনাহ মাফ করতে পারে না।

সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর আমার উপর রহম করুন। আপনি অতিশয় দয়ালু পরম মেহেরবান।

দুই – তাওবা আগুনকে পানি রাগকে দয়া গোনাহকে সওয়াবে পরিণত করতে পারে। তাই বেশি বেশি করে তাওবা করুন।

নিজের গোনাহগুলো নাম ধরে ধরে উল্লেখ করে দয়াময় প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

তাওবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাক্য বা শব্দ নেই। আপনার নিজের ভাষায় সুন্দর ও রুচিকর শব্দ দ্বারা বাক্য তৈরি করে অনুনয় বিনয়ের সাথে তাওবা করুন।

হতে পারে আল্লাহ তায়ালার রহমের দুয়ার উন্মুক্ত হবে। আপনার মনের বাসনা পূর্ণ হবে। আপনি একটি কোমল সন্তান লাভ করবেন।

গর্ভধাণের দোয়া কখন কীভাবে করতে হবে?

আমরা উপরে গর্ভধাণের দোয়া ও আমল পেশ করেছি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় এই দোয়া ও আমল কখন করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে?

উত্তর – গর্ভধাণের দোয়া ও আমল অন্যান্য দোয়ার মতোই একটি দোয়া। তাই পাক পবিত্র হয়ে ও ওযু করে সেটা যে কোনো সময়ই করতে পারেন।

তবে হাদিসে দোয়া কবুলের কিছু উত্তম সময়ের সন্ধান দেওয়া হয়েছে। যেমন –

আবু উমামা – রাদিয়াল্লাহু আনহু – থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে –

قيل لرسول الله صلى الله عليه و سلم أي الدعاء أسمع ؟ قال جوف الليل الآخر ودبر الصلوات المكتوبات

“রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – কে প্রশ্ন করা হলো, কোন দোয়া অধিক গ্রহণযোগ্য? তিনি বললেন – শেষ রাত্রে এবং ফরজ সালাতের পর।” (তিরিমিযি – ৩৪৯৯)

অন্য আরেকটি হাদিসে বলেন –

إذا انصرفت من صلاة المغرب فقل اللهم أجرنى من النار. سبع مرات فإنك إذا قلت ذلك ثم مت فى ليلت كتب لك جوار منها وإذا صليت الصبح فقل كذلك فإنك إن مت فى يومك كتب لك جوار منها

‘যখন তুমি মাগরিবের সালাত শেষ করে ফিরবে তখন ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার’ সাতবার বলবে।

কেননা এটা পড়ার পর যদি তুমি রাত্রে মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তার ফরমান লিখা হবে। আর যখন তুমি ফজরের সালাত আদায় করবে তখন অনুরূপ বলো।

অতপর যদি তুমি এই দিনে মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফরমান লিখা হবে।’

এই হাদিসগুলো থেকে এটা বুঝা যাচ্ছে যে, ফরজ সালাতের পরবর্তী সময়ে দোয়ার একটি বিশেষত্ব রয়েছে।

সে সময়ে দোয়া কুবল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। কিন্তু বর্ণিত ফজিল পেতে কোন পন্থায় দোয়া করতে হবে সেটা উল্লেখ নেই।

তবে রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – যিনি এসব হাদিসের উৎস তাঁর সারা জীবনের সালাত পরবর্তী দোয়ার পদ্ধতি ও সাহাবায়ে কেরামকে শিখিয়ে দেওয়া পদ্ধতি থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় এই দোয়া হবে একাএকা ও অনুচ্চকণ্ঠে।

যেমন একটি হাদিসে বারা – রাদিয়াল্লাহু আনহু – বর্ণনা করেন,


كنا إذا صلينا خلف رسول الله -صلى الله عليه وسلم- أحببنا أن نكون عن يمينه يقبل علينا بوجهه – قال فسمعته يقول رب قنى عذابك يوم تبعث – أو تجمع – عبادك

‘আমরা রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর পেছনে সালাত আদায়কালে তাঁর ডানদিকে থাকাকে পছন্দ করতাম। তিনি তাঁর চেহারা আমাদের দিকে ফিরাতেন।

বারা – রাদিয়াল্লাহু আনহু – বলেন, অতপর আমি তাকে ‘হে আমার প্রতিপালক আপনি আমাকে সে দিন আপনার শাস্তি থেকে নিরাপদ রাখুন যে দিন আপনার বান্দাদের পুনরুত্থান করবেন।’ বলতে শুনি।’ (মুসলিম শরিফ)

এভাবে জুমুআ রাতে দোয়া কুবল হয় বলে হাদিসে এসেছ। জুমুআ রাত মানে হলো – বৃহস্পতিবার দিনের শেষে যে রাত আসে সেটা।

তাই চেষ্টা করবেন সব সময় ফরজ নামাজের পরে দোয়াগুলো করতে। এভাবে মাঝেমধ্যে মধ্যরাতে ঘুম থেকে ওঠে চার-ছয় রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে আল্লাহ কাছে দোয়া করতে পারেন।

তবে গর্ভধাণের জন্য কোনো ভ্রান্ত পথ ও পন্থা অবলম্বন করা যাবে না। যেমন আমাদের বাংলাদেশে অনেকে সন্তান চাইতে মাযারে যায়।

আবার কেউ কেউ মসজিদের ইমাম সাহেব ও কতিপয় লোক ডেকে এনে কুআনের খতম ও সম্মিলিত দোয়ার আয়োজন করিয়ে থাকে।

এগুলো সম্পূর্ণ ধর্ম ব্যবসা ও ভাওতাবাজি। যার কোনো কোনটি স্পষ্ট শিরক। আবার কোনোটি বিদআত।

এর রকম আমলের ফলে আল্লাহ তায়ালা তো সন্তান দিবেই না বরং উল্টো মরণের পর জাহান্নমে নিক্ষেপ করবেন। মায়ায আল্লাহ।

অনুপ্রেরণার গল্প – সন্তানহীন দম্পতির পাথেয়

গর্ভধারণের দোয়া – গল্প এক

আল্লাহর এক প্রিয় বান্দা বাস করতেন জেরুজালেমে। তিনি বয়সের দিক দিয়ে বুড়ো হয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর কোনো সন্তান ছিলো না।

তাই তিনি বিষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন তার সম্প্রদায়কে নিয়ে। তিনি ভাবছিলেন তাঁর মৃত্যুর পরে সম্প্রদায়ের লোক পথ ভ্রান্ত হয়ে যাবে।

অথচ তাদের সঠিক পথ দেখানোর মতো যোগ্য কেউ নেই।

নিজেরও কোনো সন্তান নেই যাকে আল্লাহর প্রতি আহ্বানকারী হিসেবে পৃথিবীতে রেখে যেতে পারেন।

এসব ভাবনা নিয়ে তিনি দিন পার করছিলেন। এর মধ্যে একদিন মারইয়াম (ইসা -আলাইহিস সালাস- এর মাতা) এর কাছে গিয়ে নানান রকম ফল দেখতে পেলেন।

কিন্তু তখন এসব ফলের মৌসুম ছিলো না। তাই তিনি কৌতুহল গোপন করতে না পেরে মারইয়ামকে জিজ্ঞাস করলেন, এই সময়ে এসব ফল কোথা থেকে এলো?

মারইয়াম উত্তর দিলেন – এগুলো এসেছে মহাক্ষমতাবান মালিক আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে। জাবাব শুনে আল্লাহর এই বান্দা চিন্তার সমুদ্রে ডুব দিলেন।

তিনি ভাবলেন যে আল্লাহ অসময়ে ফল দিতে পারেন। সেই আল্লাহ বুড়ো বয়সে সন্তানও দান করতে পারেন। তাই তিনি আল্লাহ দরবারে সন্তান চেয়ে দোয়া করতে লাগলেন।

অতপর আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি সন্তান পেয়ে ধন্য হলে। এবং আল্লাহর শুকর আদায়ে লুটিয়ে পড়লেন।

প্রিয় পাঠক, এই গল্পটি আল্লাহর সম্মানিত নবি যাকারিয়া – আলাইহিস সালাম – এর।

গর্ভধারণের দোয়া – গল্প দুই

ফিলিস্তিন এলাকায় আল্লাহর প্রিয় একজন বান্দি বাস করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও প্রচুর ইবাদতকারী।

একদিন আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে একজন ফেরেস্তা এসে তাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলেন।

এটা শুনে তিনি আশ্চর্য হয়ে গেলে! তিনি বললেন – আমি তো বিয়ে করিনি। কোনো পুরুষও আমাকে হারাম উপায়ে স্পর্শ করেনি। তাহলে আমার সন্তান হবে কি করে?

ফেরেস্তা বললেন এটাই আল্লাহ চান। আল্লাহ পুরুষ ছাড়াও গর্ভে সন্তান দিতে পারেন। তিনি সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু।

এরপর তিনি গর্ভধারণ করলেন। সময় মতো একটি পুত্র সন্তানও জন্ম দিলেন। কিন্তু তার সমাজের মানুষ তাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য শুরু করে দিলো।

তারা বলাবলি করতে লাগলো এই মেয়ের বিয়ে হয়নি। সে কীভাবে সন্তানের মা হতে পারে? নিশ্চয় সে যিনায় লিপ্ত হয়ে এই সন্তানের জন্ম দিয়েছে।

আমরা এতোদিন যাকে ভালো সৎ চরিত্রবান মেয়ে হিসেবে চিনতাম সে আসলে একটা নষ্ট মেয়ে।

ঠিক সে সময় তার নবজাতক ছেলে কথা বলতে শুরু করে দিলেন। মানুষ অবাক হয়ে তার দিকে তাকাচ্ছিলো।

আজকের শিশু কি করে কথা বলতে পারে। এটা তো মহাজাগতিক কোনো অলৌকিক ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়।

সেই শিশুটির মুখ থেকে উচ্চারিত হচ্ছিলো –

আমি আল্লাহর এক বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়োছে এবং নবি বানিয়েছেন। (সুরা : মারইয়াম – ৩০)

প্রিয় পাঠক এই গল্পটি মারইয়াম – আলাইহাস সালাম – এর।

গর্ভধারণের দোয়া ও বিশেষ কিছু কথা

এই দুটি গল্পই পবিত্র কুরআনে বর্ণিত। এভাবে পবিত্র কুরআনে আল্লাহর রাসুল ইবরাহিম – আলাইহিস সালাম – কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। তিনিও বৃদ্ধ বয়সে সন্তান লাভ করেছিলেন।

এই গল্পগুলো অনুপ্রেরণার এক একটি মহা দাস্তান আমাদের সামনে উপস্থাপন করে।

আমাদের শিক্ষা দেয় আল্লাহ কেবল সন্তানহীনকে সন্তান দান নয় বরং বুড়ো বয়সে এমনকি পিতা ছাড়া সন্তান দিতে পারেন।

গর্ভে সন্তান দানের ক্ষমতা কেবল আল্লাহ তায়ালা রাখেন। আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা সন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা সন্তানহীন রাখেন।

আল্লাহ তায়ালে বলেন

অনুবাদ – তিনি (আল্লাহ) যাকে ইচ্ছে কন্যা সন্তান দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছে ছেলে সন্তান দান করেন। অথবা কন্যা-পুত্র উভয়ই দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা রাখেন।’ (সুরা আশ- শুরা ৫০)

সকল ক্ষমতার উৎস আল্লাহ তায়ালার হাতে। তাঁর দান ও রহম থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। সকল সময়ে সকল পরিস্থিতিতে তাঁর দরবারে হাত তুলতে হবে বিনয়ের সাথে।

তিনি বলেন –

তোমরা আল্লাহর দয়া থেকে নিরাশ হয়ো না। (সুরা : আয-যুমার – ৫৩)

তাই কখনই নিরাশ হওয়া যাবে না। কখনই হাল ছাড়া যাবে না। আল্লাহর দরবারে চাইতে থাকলে আল্লাহ আপনাকে সন্তানহীন রাখবেন না।

আজ বা কাল আপনাকে সন্তান দান করবেন সেই বিশ্বাস রেখে দোয়া করতে থাকুন।

Leave a Comment