ইসলামে ওরাল সেক্স জায়েজ কি না – একটি দালিলিক বিশ্লেষণ

ওরাল সেক্স – আধুনিক দাম্পত্য জিজ্ঞাসাগুলোর বিশেষ একটি জিজ্ঞাসা হলো – ইসলামে ওরাল সেক্স জায়েজ কি না ।

বিষয়টি পার্সোনাল লাইফঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে অনেকের জানার আগ্রহ থাকার পরও কারো সামনে মুখ খুলে প্রশ্ন করতে ইতস্তবোধ করেন।

আবার অনেকে প্রশ্ন করলেও সঠিক উত্তরটি বুঝে পেতে নানান কারণে জটিলতা থেকে যায়।

তাই আজ আমরা ই-মাদ্রাসার পাঠকদের জন্য ইসলামে ওরাল সেক্স বিষয়টি সুন্দর ও সাবলিলভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করবো।

ইসলামে ওরাল সেক্স জায়েজ কি না

স্বামী স্ত্রী সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন –

তারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের পরিধেয় আর তোমরা (স্বামীগণ) তাদের পরিধেয়।’ (সুরা বাকারা – ১৮৬)

অপর আয়াতে বলেন –

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র স্বরূপ। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বিচরণ করো।’ ( সুরা বাকারা – ২২৩ )

ওরাল সেক্স কি জায়েজ

আয়াত দুটি স্বামী স্ত্রী যৌন সম্ভোগের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা দিচ্ছে। যা প্রমাণ করে তারা একে অন্যের সম্পূর্ণ শরীর সম্ভোগ করতে পারবে।

তবে আয়াত দুটি ওরাল সেক্স বৈধ হওয়াকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে না। আবার নিষেধও করছে না।

ইসলামিক স্কলারগণ বলে থাকেন – মুসলিম দাম্পত্য লাইফে দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখা আবশ্যক।

প্রথম বিষয় হলো – যে সব ক্ষেত্রে শরিয়তে নিষিদ্ধের বাণী এসেছে তা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

যেমন – স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম বা অ্যানাল সেক্স। কেননা এটা একটি মহাপাপ।

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বলেন –

‘সে ব্যক্তি অভিসপ্ত যে তার স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস করে।’

ভিন্ন শব্দে আছে আল্লাহ তায়ালা সেই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না, যে তার স্ত্রীর সাথে পায়ুসঙ্গম করেছে। ( আবু দাউদ – ২১৬৪)

এভাবে স্ত্রীর ঋতুস্রাব ও নেফাস চলাকালীন সময়ে সহবাস থেকে বিরত থাকা। এ সময়ে সহবাস করাকে কোরআন ও হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন –

‘ঋতুস্রাবের সময় তোমরা স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকো। আর তারা পাক পবিত্র হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের ধারে কাছে যেও না।’ ( সুরা বাকারা – ২২২)

হাদিসে রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম – বলেছেন –

যে ব্যক্তি ঋতুস্রাবগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে বা স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস করলো বা গণকের কাছে এসে তার কথা বিশ্বাস করে নিলো, সে প্রকৃত পক্ষে মুহাম্মাদের উপর অবর্তীণ সবকিছু অস্বীকার করলো।’ ( তিরিমিযি – ১৩৫ )

দ্বিতীয় বিষয় হলো – দাম্পত্য জীবন ও যৌন-সম্ভোগে ইসলামের সর্বজনীন সৌন্দর্য ও সর্বোত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সুসংহত রাখা।

ওরাল সেক্স নিষেধ হওয়া সম্পর্কে যদিও কোরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট কোনো দলিল নেই।

কিন্তু ওরাল সেক্স অবশ্যই উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্য, চারিত্রিক উচ্চতা ও বিশুদ্ধ রুচিবোধ পরিপন্থি একটি কাজ।

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম – বলেন –

অনুচিত জিনিস পরিহার করে চলা ব্যক্তির ইসলামি লাইফের সৌন্দর্য।’ ( তিরিমিযি – ১৪৮৯ )

তাই মুসলিম দাম্পত্য লাইফে ওরাল সেক্স থেকে বিরত থাকাটা প্রশংসনীয়। কিন্তু তা হারাম নয়। যদি কেউ করতে চায় বা করে তবে তাকে তিরস্কার করা যাবে না।

ওরাল সেক্স ও তিনটি ক্ষতিকরদিক

এক – ওরাল সেক্সের প্রক্রিয়ায় পেশাবের ছিটা ফোঁটা বা কামরস – (মজি ও ওদি) ইত্যাদি অপবিত্র নোংরা জিনিস মুখে লাগার সম্ভাবনা প্রবলভাবে দেখা দেয়।

যা থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক এবং তা মহান আল্লাহর ভালোবাসা লাভের মাধ্যম।

যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন –

নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তাওবাকারী ও পাক পবিত্র লোকদের ভালোবাসেন।’ ( সুরা বাকারা – ২২২ )

দুই – মুখ ও জিহ্বা হলো আল্লাহ তায়ালার জিকির তেলাওয়াত ইসতেগফার ইত্যাদি পবিত্র কাজের জন্য। তাই মুখ ও জিহবাকে উত্তম কাজে ব্যবহার করাটাই মুমিনের বৈশিষ্ঠ্য।

ওরাল সেক্স করা মানে সজ্ঞানে নোংরা কোনো জিনিসকে নিজের মুখ জিহবার মতো পবিত্র জায়গায় আহ্বান করা।

হানাফি ফকিহ বুরহান উদ্দিন – রাহিমাহুল্লাহ – বলেন –

পুরুষ যদি তার স্ত্রীর মুখে লিঙ্গ প্রবেশ করিয়ে নেয় তবে কেউ কেউ বরেছেন তা মাকরুহ হবে। কেননা এটা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের স্থান।

তাই তার ভেতর লিঙ্গ প্রবেশ করানো উচিত নয়। আর কেউ কেউ এর বিপরীত মতামত দিয়েছেন।’ ( আল মুহিতুল বুরহানি – ৫/২৯৭ )

তিন – চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে জড়িত অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন – ওরাল সেক্স ক্যান্সারসহ নানান ধরনের রোগব্যধি জন্ম দিতে পারে।

যদিও তা নির্ভর করে যৌনাঙ্গে জীবাণুর উপস্থিতি বা কামরস মুখের ভেতরে প্রবেশ ইত্যাদি নানান আনুষাঙ্গিক বিষযের উপর।

তবু সতর্কতা ও বিবেকের দাবি হলো তাতে না জড়োনো। ওরাল সেক্সের স্বাস্থ্যগত ক্ষতি সম্পর্কে জানতে বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বলেন –

কারো ক্ষতি করা বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।’ ( মুয়াত্তা মালিক – ২৭৫৮ )

উল্লেখ্য – উল্লিখিত তিনটি ক্ষতিকরদিক বিবেচনা করে ওরাল সেক্স হরাম বলা যেতো। কিন্তু এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত নয়।

কেননা ওরাল সেক্স করলেই মুখের ভেতর নাপাক পদার্থ প্রবেশ আবশ্যক নয়। বরং ওরাল সেক্স সম্ভাবনা সৃষ্টি করে নাপাক মুখের ভিতর প্রবেশ করার।

কেউ যদি সচেতনাতা অবলম্বন করে বা যৌনাঙ্গে কন্ডম ব্যবহার করে তাহলে তার ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনটাও দূর্বল হয়ে যায়।

অন্যদিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানও এটা নিশ্চিত করে বলে না যে, ওরাল সেক্স করলেই রোগ হবে। তাই সম্ভাব্য বিষয়কে ভিত্তি করে কোনো জিনিসকে হরাম বলা যাবে না।

লেখক – শাহ মুহাম্মাদ সুহাইল
ব্লগ নাম্বার – ২

1 thought on “ইসলামে ওরাল সেক্স জায়েজ কি না – একটি দালিলিক বিশ্লেষণ”

  1. সেই ক্ষেত্রে স্ত্রী যৌনাঙ্গ চুষা টাকেও সর্বসম্মত ভাবে হারাম বা মাকরুহ বলা যাবে না তো ?

    Reply

Leave a Comment