এশার নামাজ কয় রাকাত – হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা

এশার নামাজ কয় রাকাত: নামাজ মুসলিম জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হলো নামাজ।

আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মাদ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – বলেছেন

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাবে গ্রহণ করা হবে। ( নাসায়ি শরিফ – ৩৯৯১)

তাই কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আদালতে মুক্তি পেতে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হালাল পথে চলা প্রতিটি মুমিন নর ও নারীর জন্য আবশ্যক।

কিন্তু নামাজ পড়লেই কেবল হবে না। বরং সেটা হতে হবে বিশুদ্ধভাবে। আর বিশুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করতে হলে নামাজ সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটা জরুরি।

এসব কিছু বিবেচনায় রেখে ই-মাদ্রাসার সকল পাঠকদের জন্য আজ আমি ‘এশার নামাজ কয় রাকাত’ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি।

আশা করি এশার নামাজের রাকাত সংখ্যা জেনে বিশুদ্ধভাবে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে এই পোস্টটি দারুনভাবে সাহায্য করবে।

পোস্টটি তে থাকছে –

এশার নামাজ কয় রাকাত

প্রতিদিন আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকি। যার মধ্যে কিছু রাকাত আদায় করি ফরজ হিসাবে। আর কিছু সুন্নত বা নফল হিসাবে।

কিন্তু কোন ওয়াক্তের নামাজ কতো রাকাত তা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে কেবল ফরজ নামাজের রাকাতগুলোর সংখ্যাটা হিসাবে আনা যেতে পারে।

কেননা ফরজ নামাজ ব্যতীত বাকি সকল প্রকার নামাজই নফল নামাজের অন্তর্ভুক্ত। আপনারা যে নামাজকে সুন্নত নামে শুনে আসছেন সেটা মূলত নফল নামাজেরই একটি স্তর।

নফল মানে হলো – অতিরিক্ত। অর্থাৎ ফরজের অতিরিক্ত। নফল নামাজ মূলত আল্লাহ তায়ালা ফরজ করেননি।

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ফরজ নামাজ আদায়ের আগে অথবা পরে নিজ ইচ্ছায় কয়েক রাকাত নামাজ আদায় করতে।

যেহেতু সেই নামাজগুলো ফরজের অতিরিক্ত ছিলো। যা তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আদায় করতেন। তাই সেই নামাজকে নফল বা অতিরিক্ত নামাজ বলা হয়।

আর রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – যে নামাজগুলো নফল হিসাবে আদায় করতে। তা আমাদের জন্য সুন্নত হয়ে গেছে।

কেননা রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – যে আমল করতেন সেটা আমাদের জন্য সুন্নত হিসাবে গণ্য হয়।

এ হিসাবে বলা যেতে পারে এশার নামাজ মূলত চার রাকাত। যেহেতু এই চার রাকাত নামাজই ফরজ।

সুন্নতসহ এশার নামাজ কতো রাকাত

এশার নামাজের আগে চার রাকাত এবং পরে দুই রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা হিসাবে আদায় করা হয়।

এই দিক বিবেচনায় রেখে বলা যেতে পারে এশার নামাজ দশ রাকাত। ফরজ চার রাকাত এবং সুন্নত ছয় রাকাত।

তবে ফরজের আগে চার এবং পরে দুই রাকাত সুন্নত নামাজের মধ্যেই এশার নামাজের রাকাত সংখ্যা সীমাবদ্ধ নয়।

এই দাশ রাকাত আদায় করার দুই রাকাত দুই রাকাত করে দুই বারে মোট চার রাকাত নামাজ আদায় করা যেতে পারে। যা সুন্নত গায়ব মুয়াক্কাদা হিসাবে গণ্য হবে।

এই চার রাকাত আদায় করার পর দুই রাকাত দুই রাকাত করে নফল নামাজ পড়া যাবে। যার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই।

এভাবে বিতির নামাজকেও এশার নামাজের সাথে পড়া হয়। যদিও বিতির নামাজ এশার নামাজের অংশ নয় তবুও এশার নামাজের শেষে বিতির পড়ে নেওয়া হয়।

তাহলে এশার নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদাসহ দশ রাকাত। সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদাসহ চৌদ্দ রাকাত। এভাবে বিতিরসহ সতের রাকাত।

এশার নামাজ কয় রাকাত

সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও গায়র মুয়াক্কাদা কী

সুন্নতে মুয়াক্কাদা মানে হলো – তাগিদযুক্ত সুন্নত। অর্থাৎ এমন সুন্নত যা আদায় করার জন্য শরিয়ত দৃঢ় তাগিদ দিয়েছে।

আর সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা মানে হলো – সাধারণ সুন্নত। যা আদায়ের প্রতি শরিয়ত তেমন তাগিদ দেননি। সাধারণভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে এমন।

রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ফরজ নামাজের আগে বা পরে যে নফল নামাজ খুবই গুরুত্বসহ নিয়মিত পড়তেন।

অন্যদের পড়তে উৎসাহ দিতেন সে সব নফল নামাজকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা হিসাবে গণ্য করা হয়। আর যে সব নফল নামাজ কখনো পড়তেন আবার কখনো ছাড়তেন।

এভাবে সে নামাজগুলো আদায় করার জন্য শরিয়ত বেশ গুরুত্বারোপ করেনি। তাকে সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা বলা হয়।

সুন্নত নামাজ আদায় না করলে কী গোনাহ হয়?

সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা আদায় না করলে গোনাহ হয় না। তবে এই নামাজগুলো আদায় করা ভালো। তা পূণ্যের পাল্লা ভারি করবে।

আর সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ আদায় না করলে গোনাহ হবে বলে অনেক আলেম মতামত দিয়েছেন। আবার অনেক আলেম মনে করেন এটা না পড়লে গোনাগ হবে না।

কিন্তু সবাই এব্যাপারে একমত যে, সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ পরিত্যাগকারী ব্যক্তি একজন হতভাগা।

কেননা সুন্নত নামাজ মূলত ফরজ নামাজের ত্রুটি বিচ্ছুতিগুলোর ভর্তুকি ও সওয়াব বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

তাই যে ব্যক্তি জেনে বুঝে সুন্নত নামাজ পরিত্যাগ করবে সে মূলত নিজের পূণ্যের ভাগ কমানো ছাড়া কিছুই করছে না।

তবে বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী মতে কোনো সুন্নত নামাজই না পড়ার কারণে গোনাহ হয় না।

বিতির ও এশা – এক না কি ভিন্ন

বিতির শব্দের অর্থ হলো – বেজোড় বা আলাদা। প্রতিদিন আমার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত।

কিন্তু অন্যদিনে ফজর আসার আগে চলতি দিনের ফজরকে আলাদা করার প্রয়োজন দেখা দেয়।

তাই বিতির নামাজের দ্বারা তাকে আলাদা করা হয়।

আবার বিতির নামাজকে বেজোড় নামে নাম করণের কারণ হিসাবে বলা হয় এই নামাজকে বেজোর (তিন রাকাত) করে পড়া হয়। যদিও অন্যান্য আরো অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে।

বিতির শব্দের অর্থ ও নাম করণের কারণ থেকে হয়তো বুঝে গেছেন যে, বিতির ও এশার নামাজ এক জিনিস নয়। দুটি আলাদা আলাদা নামাজ।

বিতির নামাজ কখন কীভাবে আদায় করতে হয়

বিতিরের নামাজ আদায়ের উত্তম সময় হলো শেষ রাত্রি। যদি কেউ শেষ রাতে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ইচ্ছা রাখেন

তবে তিনি শেষে রাতে তাহাজ্জুদ আদায়ের পর বিতির নামাজ আদায় করবেন।

কিন্তু যদি তাহাজ্জুদ পড়ার ইচ্ছা না থাকে তবে এশার নামাজের পরই বিতির নামাজ পড়ে নেওয়া যেতে পারে।

যেমনটা আমাদের দেশের বেশিভাগ মুসল্লি করে থাকেন।

বিতির নামাজ এক সাথে তিন রাকাত অথবা প্রথমে দুই রাকাত আদায় করে সালম ফিরিয়ে নিয়ে পরে আলাদা করে এক রাকাত পড়া যায়।

বিতির নামাজ ও অন্যান্য নামাজের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই।

কেবল বিতির নামাজে তৃতীয় রাকাতে সুরা কেরাতের পর দোয়া কুনুত পড়তে হয়। এছাড়া বিতির নামাজ অন্য নামাজের মতোই স্বাভাবিক।

তবে বিতির নামাজ এক সাথে তিন রাকাত আদায় করা হলে প্রথম বৈঠক হবে কিনা সেটা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে।

হানাফি মাযহাবে প্রথম বৈঠক করার কথা বলা হয়েছে। আর অন্য অনেক আলেম বলেছেন বিতির নামাজে প্রথম বৈঠক করার কথা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।

তাই প্রথম বৈঠক করা ব্যতীত এক সাথে তিন রাকাত আদায় করে নিয়ে একবারে শেষে একটি বৈঠক করে নামাজ শেষ করা হবে।

Leave a Comment