ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের বিধান কী?

ইসলামে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ বৈধ। কিন্তু তার রয়েছে কিছু নিয়ম কিছু শর্ত। আপনার পঠিত এই ব্লগটিতে আমরা সে বিষয়ে বিস্তিরিত আলোচনা করছি।

আলোচনায় নিচের শিরোনামগুলো বিশ্লেষণ করছি।

ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের বিধান কী?

ইসলামে এক সাথে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ বৈধ রয়েছে। কিন্তু একাধিক স্ত্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম ও শর্ত প্রযোজ্য।

যেমন একাধিক স্ত্রীর ভরণপোষণ, আবাসন ও শয্যাযাপনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সমতাবিধান করা। সকলের প্রতি ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা। যদি তা সম্ভব না হয় তবে একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ বৈধ হবে না।

এক সাথে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের বৈধতা দিয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘নারীদের মধ্যে যাকে তোমার ভালো লাগে তাকে বিবাহ করো—দুই, তিন অথবা চার। আর যদি এটা আশঙ্কা করো যে তাদের মধ্যে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করতে পারবে না, তাহলে কেবল একজন নারীকে বিয়ে করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩)

এই আয়াতে সবথেকে বেশি যে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেটি হলো দ্বিতীয় স্ত্রী বা একাধিক স্ত্রী থাকলে সকল স্ত্রীর ক্ষেত্রে সুবিচার করা। সকলকে সমান অধিকার প্রদান করা।

কোনো একজন স্ত্রীর প্রতি যদি স্বামী অধীক আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ভরণপোষণ বা আবাসন ও সুযোগ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি তারতম্য করে তাহলে এমন ব্যক্তির জন্য একাধিক বিবাহ বৈধ নয়।

দ্বিতীয় বিয়ের উপকারিতা কী কী?

দ্বিতীয় বিয়ের বেশ কিছু উপকার রয়েছে। আমরা সংক্ষেপে নিচে কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করছি।

এক. দ্বিতীয় বিয়ে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এই উম্মতের সংখ্যা আধিক্য নিয়ে আমাদের প্রিয় নবী – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – কিয়ামতের দিন গর্ববোধ করবেন।

দুই. গোটা বিশ্বের জরিপ অনুযায়ী মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের থেকে বেশি। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক পুরুষ শুধু একজন নারীকে বিয়ে করলে বহু নারীকে স্বামী ছাড়াই থাকতে হবে।

আর এটা হবে সমাজ ও সভ্যতা নষ্টের কারণ। এর ফলে সমাজে যিনা ও অবৈধ সম্পর্ককে বিস্তার করবে। সমাজে অন্যায় অনাচারের পথ প্রশস্ত করবে।

তিন. নারীদের তুলনায় পুরুষদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। পুরুষরা এমন অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয় – যা তাদের মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যায়। যেমন বিপদজনক পেশা কিম্বা যুদ্ধ ক্ষেত্রে লড়াই করা ইত্যাদি।

এ কারণে স্বামীবিহীন নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি হতে থাকে। আর এসব স্বামীহীনা নারীকে একটি ভালো জীবন উপভোগের সুযোগ দেওয়াে একমাত্র উপায় হলো দ্বিতীয় বিয়ে।

চার. অনেক পুরুষের প্রবল শারীরিক চাহিদা বিদ্যমান থাকে। তারা একজন স্ত্রীর দ্বারা তাদের যৌন ক্ষুধা নিবারণ করতে পারে না।

এমন ব্যক্তিকে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণের সুযোগ না দিলে তার যৌন জীবন কঠিন ও কষ্টকর হয়ে যাবে। তখন তার যৌন চাহিদা হারাম উপায়ে নিবারণ করতে হবে।

পাঁচ. কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রী বন্ধ্যা হতে পারে অথবা হতে পারে প্রথম স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার কারণে তার সঙ্গে তার স্বামী দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করাটা সম্ভব নয়।

অথচ প্রতিটি পুরুষই চায় তার সন্তান হোক। প্রতিটি পুরুষই চায় তার স্ত্রীর সাথে একটি আনন্দময় যৌন মিলন।

ছয়. প্রত্যেক নারীর প্রতি মাসে ঋতুস্রাব হয়। আবার সন্তান প্রসবের পর সাধারণত ৪০ দিন পর্যন্ত রক্তপাত হয়। এই দিনগুলোতো ঐ স্ত্রীর সাথে সময় সহবাস করা হারাম।

প্রায় সকল দেশেই পুরুষের তুলনায় নারীরা দ্রুত বার্ধক্যের শিকার হয়ে যায়। সে সময় তার স্বামীর যৌবন পুরোপুরি অটুট থাকে কিন্তু স্ত্রী বুড়ি হয়ে যায়। তাই দ্বিতীয় বিয়ে করা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে কী?

ইসলামি বিধান মতে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হয় না। প্রথম স্ত্রীর অনুমিত ব্যতীত দ্বিতীয় বিয়ে করা বৈধ।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

মেয়েদের মধ্যে খেকে যাকে তোমার ভালো লাগে তাকে বিবাহ করো—দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে কেবল একজনকে বিয়ে করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩)

এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা প্রথম স্ত্রী থেকে অনুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দেননি। বা অন্য কোনো আয়াত বা হাদিসে এমন কিছু নেই।

তবে এই আয়াতে শর্ত দিয়েছেন সকল স্ত্রীর প্রতি সমতা বিধান করা। এটি অবশ্যই করতে হবে।

তবে একাধিক বিবাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম আইন প্রচলিত রয়েছে। কোনো কোনো দেশের আইনে স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। না নিলে প্রথম স্ত্রী মামলা করলে জেল হতে পারে।

এদিকে ইসলামি আইনে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি শর্ত নয়। তবে বিয়ের সময় এমন যদি এমন শর্ত করা হয় তাহলে অনুমতির প্রয়োজন।

ইসলামে স্ত্রীর অধিকার

প্রথম স্ত্রীর যে সব অধীকার আছে দ্বিতীয় স্ত্রীরও সেসব অধীকার থাকে। কোনো ক্ষেত্রেই এক স্ত্রীর তুলনায় অন্য স্ত্রীর অধীকার কম বেশি হবে না।

আবু হুরায়রাহ – রাদিয়াল্লাহু আনহু – বর্ণনা করেন –
রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – বলেছেন, যদি কোনো পুরুষের দু’জন স্ত্রী থাকে আর সে তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার না করে, তবে সে কিয়ামতের দিন একপাশ ভঙ্গ (অঙ্গহীন) অবস্থায় উঠবে। (তিরমিযী ১১৪১)

1 thought on “ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের বিধান কী?”

  1. ভাই আমার বৌ বনদা আমার 2য় বিয়ে করার পেরোজন 01943090401
    বরিশাল সদর

    Reply

Leave a Comment