ইসলামে ডান্স কি হারাম?

ইসলামে ডান্স কি হারাম? ডান্সের রয়েছে একটি দীর্ঘ ইতিহাস। সেই প্রাচীনকাল থেকে মানব শরীরের অনবদ্য শিল্প হিসাবে ডান্স বিনোদনের একটি বিশেষ অংশ  হিসাবে চলে আসছে। 

ডান্স মানব সভ্যতা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের একটি বিরাট অংশ দখল করে আছে।  তা প্রতিটি দেশ ও অঞ্চল ভেদে ভিন্ন অঙ্গভঙ্গিমা ও জৌলুসে প্রকাল লাভ করে। 

ইসলামি আইনে ডান্স ব্যক্তি স্থান ও তার পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বিবেচনায় একটি হল ব্যাপক বিধানের অবকাশ রাখে। 

অর্থাৎ স্বামীর সামনে তার স্ত্রীর ডান্স , এক মহিলার সামনে অন্য মহিলার ডান্স, মাহরাম পুরুষের সামনে মাহরাম মহিলাদের ডান্স এবং গায়র মাহরাম নারী পুরুষের ডান্স। 

তাই ডান্স বিষয়ে ইসলামের বিধান আলোচনা করতে গিয়ে সবকয়টি দিক তুলে ধরা একটি বিবেককেন্দ্রীক আবশ্যিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আমরা ধারাবাহিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা করছি।

ইসলামে ডান্স কি হারাম?

ইসলামে স্পষ্পভাবে ডান্সকে হারাম করা হয়নি। এ হিসাবে ইসলামিক ফিকহের একটি প্রশিদ্ধ মূলনীতি অর্থাৎ প্রতিটি জিনিসের মূল হল বৈধ হওয়া – এর ভিত্তিতে বলা চলে ডান্স বৈধ। 

তদুপরি ফুকাহায়ে কেরাম ইসলেমে ডান্স কি হারাম? এ বিষয়ে বিস্তর কথা বলেছেন। তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডান্স ও তার সাথে সংযুক্ত কর্মক্রীয়ার দিকে লক্ষ্য করে হারাম বলেছেন। 

আবার যেখানে হারাম হওয়ার মতো কোনো কারণ বিদ্যমান নেই এমন কিছু ক্ষেত্রে বৈধতা দিয়েছেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটা মাকরুহ বলে অভিমত দিয়েছেন।  

ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মত অভিমত হলো যদি হারাম কোনো কারণ যুক্ত হয় তবে সেটা হারাম হবে। যেমন আওরাহ উন্মুক্ত করে ডান্স করা, ডান্সের সাথে হারাম গান ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি।

কেননা আওরাহ প্রকাশ করা হারাম। একইভাবে অনুপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করে গান গাওয়া ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো হারাম। 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

অনুবাদ: হে নবী আপনি মুমিন পুরুষদের বলে দিন তারা যেন তাদের চক্ষু অবনত ও লজ্জাস্থান হেফাজতে রাখে। এটা তাদের জন্য পবিত্র থাকার অধীক উপযুক্ত। এবং মুমিন নারীদের বলে দিন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজতে রাখে। ( সুরা নুর – ৩০) 

বস্তুত অশ্লীল নৃত্য অনেক সময় তার সঙ্গী হিসাবে মদ পান, যিনা ও যৌন উত্তেজক কথা সম্বলিত গানকে নিয়ে আসে। সেখানে নারী দেহের আকর্ষণীয় অঙ্গগুলো কামরূপী করে উপস্থাপন করা হয়। 

ইসলামিক স্কলারদের অভিমত

ডান্সের মধ্যে যদি হারাম কোনো কারণ বিদ্যমান না থাকে তবে তার বিধান সম্পর্কে ফুকাহায়ে কেরাম ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন।

শাফি মাযহাবের আলেমগণ এটাকে হারাম মাকরুহ মনে করেন না। তারা এটাকে বৈধ মনে করেন। 

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ফুকাহায়ে কেরাম – তাদের মাধ্যে হানাফি মালাকি ও হাম্বালি মাযহাবের বিশিষ্ট আলেমগণ এই অভিমত পেশ করেন যে, ডান্স মাকরুহ। যদি হারাম হওয়ার কারণ বিদ্যমান থাকে তবে হারাম হবে।

কেননা ডান্স করা, শরীরের প্রদর্শনী ও অঙ্গভঙ্গিমা দেখিয়ে বিনোদন করা এটা অমুসলিমদের কালচার।  আর ইসলামে বিধর্মীদের কালচার গ্রহণ করা থেকে ককঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। 

স্বামী ও স্ত্রী একাকি ডান্স করা কি হারাম?

স্বামী ও স্ত্রী যদি একসাথে ডান্স করে তবে সেটা হারাম হবে না। এটা তাদের বিনোদন ও রোমেন্স হিসাবে গণ্য হবে। কেননা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোনো অশ্লীলতা নেই।

তবে তাদের ডান্সের মধ্যে হারাম কোনো কর্ম যুক্ত হতে পারবে না। যেমন মিউজিক বা গান বা বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি। 

এভাবে তাদের এই ডান্স অন্য কারো সামনে হতে পারবে না। তারা যখন একা থাকবে অন্য কেউ এটা দেখার অবকাশ রাখে না তখন তারা এটি করতে পারবে। 

কিন্তু কেউ যদি তাদের ডান্স দেখার অবকাশ থাকে তাহলে সেটা থেকে তারা বিরত থাকবে। তারা তাদের ডান্স ভিডিও করতে পারবে না। যদি ভিডিও করে নেয় তবে একান্ত নিরাপদে রাখবে। 

ইসলামে ডান্স নিষিদ্ধ কেন?

ডান্স হারাম হওয়ার কারণ হলো এটা সমাজে অশ্লীলতা ও যৌনতাকে প্রসার করে। বর্তমানে আমাদের সমাজে বিশেষ করে অনলাইন জগতের দিকে দৃষ্টপাত করলেই সেটা বুঝতে কারো অসুবিধা হবে না। 

ইউটিউব ও টিকটকে যুবতী মেয়েরা অর্ধ নগ্ন পোশাক পরে অশালীন অঙ্গভঙ্গিমায় যেভাবে ডান্স ও গান পাবলিশ করছে সেটা নিঃসন্দেহে একটি পাপের মহারাজ্য বলে চলে। 

এরকম ডান্স মানুষকে মদ্যপান যিনা ও খুন খারাবির প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। সর্বোপরি সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাই ইসলামে ডান্স নিষিদ্ধ। 

Leave a Comment

Exit mobile version