ইসলামে অ্যানাল সেক্স কি জায়েজ – একটি বিশ্লেষণ

অ্যানাল সেক্স বা পায়ুকাম । দিনদিন মুসলিম সমাজে বেশ পরিচিতি লাভ করছে। যার ফলে প্রশ্ন জন্ম নিচ্ছে – ইসলামে অ্যানাল সেক্স কি জায়েজ ?

পর্ণগ্রাফী ও দাজ্জালি মিডিয়া রঙিন ফানুসের মতো এই কাজটি প্রমোট করছে মুসলিম সমাজে।

ফলে ইসলামের বিধান না জানা সাদাসিধে অনেক মুসলিম আগ্রহী হয়ে ওঠছে অ্যানাল সেক্স করার প্রতি।

হয়তো আপন স্ত্রীর সাথে পায়ুকামে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সে কি নিজের অজান্তে একটি মহাপাপে লিপ্ত হচ্ছে ?

ই-মাদ্রাসা’র পাঠকদের জন্য এই প্রশ্নটির উত্তর দিয়ে সাজিয়েছি আজকের ব্লগ। আজ তুলে ধরছি ইসলামে অ্যানাল সেক্স – পায়ুকাম কি জায়েজ ? না কি হারাম ?

ইসলামে অ্যানাল সেক্স -পায়ুকামের বিধান

অ্যানাল সেক্স হারাম হওয়ার উপর অধিকাংশ ফিকাহবিদ মতামত দিয়েছেন। কিছু ফকিহ মনে করেন অ্যানল সেক্স মাকরুহ।

আবার কিছু ফকিহ থেকে অ্যানাল সেক্স কি জায়েজ ? এই উত্তরে হ্যা – বাচক উত্তর দিয়েছেন। তবে হারাম হওয়ার অভিমতটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য।

এটাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ফিকাহবিদদের মতামত। যাদের মধ্যথেকে হানাফি, হাম্বালি মাযহাব, মালিকি মাযহাবের এক বর্ণনা, ইমাম শাফি থেকে এক বর্ণনা এবং ইমাম ইবনু তাইমিয়া ও ইমমা ইবনুল কায়্যিম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

অ্যানাল সেক্স – পায়ুকাম হারাম হওয়ার দালায়িল

কোরআন ‍ও সুন্নাহর আলোকে অ্যানাল সেক্স স্পষ্টভাবে হারাম প্রমাণিত হয়। তাছাড়া আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এই যৌনক্রীয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যগত ঝুকি থাকার কথা জানিয়েছে।

তাই কোরআন হাদিসের পাশাপাশি সুষ্ঠু বিবেকও এই কাজটি সমর্থন করতে পারে না।

কেননা যে কাজ নিজের ক্ষতি ডেকে আনে সে কাজ উম্মাদ ছাড়া কেউ গ্রহণ করে না।

হাদিস থেকে পায়ুকাম হারাম হওয়ার প্রমাণ

  • রাসুলুল্লাহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম- বলেন –

‘সে ব্যক্তি অভিসপ্ত যে তার স্ত্রীর সাথে পায়ুকাম বা অ্যানাল সেক্স করে।’ ভিন্ন শব্দে আছে ‘আল্লাহ তায়ালা সেই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না, যে তার স্ত্রীর পাযুপথে সহবাস করেছে।’ (আবু দাউদ – ২১৬৪)

পায়ুকাম - অ্যানাল সেক্স

  • অপর হাদিসে রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম – বলেন –

যে ব্যক্তি ঋতুস্রাবগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে বা স্ত্রীর সাথে পায়ুকাম – অ্যানাল সেক্স করলো বা গণকের কাছে এসে তার কথা বিশ্বাস করে নিলো, সে প্রকৃত পক্ষে মুহাম্মাদের উপর অবর্তীণ সবকিছু অস্বীকার করলো।’ ( তিরিমিযি – ১৩৫ )

  • অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম- বলেন –

আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জা করেন না, তোমরা স্ত্রীদের সাথে পায়ুকাম করো না।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান – ৪১৯৭)

উল্লেখিত হাদিসগুলো খুবই শক্ত ও দ্ব্যর্থহীনভাবে অ্যানাল সেক্স বা পায়ুকাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করছে।

তাই কোনো মুসলিমই হাদিসের বিধান লঙ্ঘন করে এমন গর্হিত ও রুচিবিকৃত কাজে লিপ্ত হতে পারে না।

অ্যানাল সেক্স বিষয়ে ইসলামি স্কলারদের মতামত

  • আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়িতিয়্যায় গ্রন্থে বলা হয় –

হানাফি শাফিয়ি মালিকি হাম্বলি ও অন্যান্য আহলে ইলমের মধ্য থেকে অধিকাংশ ফিকাহবিদ স্ত্রী বা বাঁদির সাথে পায়ুকাম – অ্যানাল সেক্স হারাম হওয়ার মতামত দিয়েছেন।

এ অভিমতটি আলি, আবু দারদা, ইবনু আব্বাস, ইবনু উমার ও আবু হুরাইরা – রাদিয়াল্লাহু আনহুম – থেকে বর্ণনা করা হয়।

এ মতেরই প্রবক্তা হলেন – সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব, আবু বকর ইবনু আব্দুর রাহমান, মুজাহিদ, ইকরিমা, তাউস ও সাউরি।

মাওয়ারদি বলেন, এই মতের উপর রয়েছেন সাহাবা, অধিকাংশ তাবিয়ি ও ফিকাহবিদ।

আর ইবনুল কায়্যিম বলেন, কেনো নবিই স্ত্রীর সাথে পায়ুকামের বৈধতা দেননি। ( আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাতিল কুয়িতিয়্যায় – ৪৪/২৬)

  • ইবনু তাইমিয়া -রারিমাহুল্লাহ- বলেন –

স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস করা কোরআন, সুন্নাহ এবং সংখাগরিষ্ঠ সালাফ ও খালাফের মতামতের ভিত্তিতে হারাম।’ ( আল ফাতাওয়াল কুবরা – ৩,১৪৭)

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও অ্যানাল সেক্স

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এ কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করে যে, অ্যানাল সেক্স করার ফলে অনেক রকম রোগের জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাভাবিক পন্থায় মিলনের চেয়ে পায়ুকামে যৌন রোগ জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পায়ুকামকে সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ যৌনতা বলা হয়।

এটা থেকে যৌনবাহিত রোগ যেমন HIV হতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবহিত করেছেন।

পায়ুপথ যোনির মত পিচ্ছিল ও নরম না থাকায় পায়ুপথের টিস্যু সহজে আক্রান্ত হয়ে যায়। ফলে সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

যা অনেক সময় মৃত্য ডেকে আনে। এ জন্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পায়ুকামকে অনিরাপদ যৌনতা বলে আখ্যা দেয়।

ইসলামে অ্যানাল সেক্স জায়েজ নয় কেন

ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য যৌনাতাকে কেবল আনন্দ ও ভোগের বস্তু হিসাবে পরিবেশন করেনি। সহবাসকে করেনি নারী পুরুষের জৈবিক চাহিদা নিবারণের মাধ্যম।

ইসলাম আনন্দ ও উপভোগের সাথে সাথে সহবাসের মধ্যে নিহিত রেখেছে ইহকালী কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির পাথেয়।

এ জন্যই একজন মুসলিমের সহবাসের মূলে থাকে – সামাজিক সুশৃঙ্খলা। স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা। চরিত্রিক পবিত্রতা। নৈতিক উচ্চতা। শান্তি ও প্রফুল্লতা।

সাথে সাথে সন্তান লাভ, পরিবার ব্যবস্থা, সমাজবদ্ধা, মানবিক জীবন যাপন ইত্যাদি বিষয়কে ইসলাম সহবাসের মৌলিক ফল হিসাবে বিবেচনা করে।

তাই ইসলাম অ্যানাল সেক্সকে সাপোর্ট করে না। কেননা তার মধ্যে উপকারী কোনো ফলাফল নেই। নেই সন্তান বা মানব বংশ বৃদ্ধির শক্তি। নেই পরিবার বা সমাজ ব্যবস্থা চলমান রাখার উপকরণ।

আছে কেবল স্বাস্থগত শংকা। অরুচিকর ও অপাকৃতিক যৌনাতা। যা বন্যপশু ও বোধহীন প্রাণীরা গ্রহণ করতে পারে। কোনো বিবেকধারী মানুষ গ্রহণ করতে পারে না।

পায়ুকাম বা অ্যানাল সেক্স ও শেষ কথা

বর্তমানে আমাদের পৃথিবীতে বিরাজ করছে এক চরম অন্ধকার। নোংরা রুচিহীন উশৃঙ্খল ও ঝুকিপূর্ণ যৌনাচারের অন্ধকার। বাধা বন্ধনহীন যৌনতৃপ্তি লাভের আহ্বান ভরা অন্ধকার।

যে অন্ধকার ছড়াচ্ছে হাজার হাজার পর্ণ ইন্ডাস্টি। যে অন্ধকার ছড়াচ্ছে লক্ষ লক্ষ মডেল নামের দেহ ব্যবসায়ী নারী।

যে অন্ধকার ছড়াচ্ছে দাজ্জালপন্থী মিডিয়া কলামিস্ট সাংবাদিক সাহিত্যিক।

অগণন পথে, অগণন পন্থায় প্রতিনিয়ত সেই অন্ধকার গ্রাস করে নিচ্ছে আমাদের যৌন জীবন। পথ ও সুখহারা হচ্ছে কতো বনি আদম।

পর্ণ আসক্ত যুবকরা একটি মহাব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে দিনদিন। তারা নিজ স্ত্রীর শরীরকে পর্ণ তারকাদের ছায়া হিসাবে চিন্তা করতে শুরু করে। পর্ণ স্টাইলে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে মাতাল হয়ে ওঠে।

অতপর ব্যর্থ হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে অপমানকর মন্তব্য করে বসে। ফলে তাদের দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে ভয়াল বিষাদ।

সাথে সাথে সাংসারিক জীবনের সুখ-শান্তি ম্লান হয়ে যায় চরম সংকট ও দুঃচিন্তার করাঘাতে।

তাই প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্যই আবশ্যক পশ্চিমা নোংরা সংস্কৃতি ও পর্ণগ্রাফীর নগ্ন থাবা থেকে নিজেকে হেফাজত রাখা। আবশ্যক অ্যানাল সেক্স থেকে দূরে থাকা দূরে থাকা।

পৃথিবী যতোই অন্ধকারে নিমজ্জিত হোক না কেন নিজের আত্মা শরীর মন ও মানসিকতাকে নিজেই সুরক্ষিত রাখতে হবে।

কেননা অপারে গিয়ে সকল কর্মের হিসাব নিজেকেই দিতে হবে।

লেখক – শাহ মুহাম্মাদ সুহাইল
ব্লগ নাম্বার – ৩
১৪ ডিসেম্বর ২০২০ ই.

1 thought on “ইসলামে অ্যানাল সেক্স কি জায়েজ – একটি বিশ্লেষণ”

  1. এত এড কেন আপনাদের ব্লগে তাও নারীদের ছবি? এভাবে দ্বীন প্রচার করা কি বৈধ?

    Reply

Leave a Comment